দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় নির্বাচনোত্তর সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে অবিলম্বে তা প্রতিরোধের দাবি জানিয়েছেন দেশের ৩৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সারা দেশে কোনো বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই অনুষ্ঠিত হওয়ার যে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে, তা ম্লান করার উদ্দেশ্যে নির্বাচনের একদিন পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে আক্রমণ ও সংঘাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাগেরহাট, ফরিদপুর, রংপুর, কুমিল্লা, পিরোজপুর, নাটোর, ঝালকাঠি, নোয়াখালীর হাতিয়া ও ঝিনাইদহসহ বেশ কিছু জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সহিংস আক্রমণ ও পাল্টা প্রতিশোধের ঘটনায় ইতোমধ্যে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। এছাড়া পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে একটি নির্দিষ্ট দলকে ভোট দেওয়ার শাস্তি হিসেবে জরিমানা আদায়ের মতো নিন্দনীয় অভিযোগও পাওয়া গেছে।
নাগরিকবৃন্দ বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির চেয়ারম্যান শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে কর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন এবং অন্যান্য দলের নেতারাও অনুরূপ বক্তব্য দিয়েছেন। এমতাবস্থায় যে সকল দল বা প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো সমর্থকদের সহিংসতা থেকে বিরত রাখা।
একই সাথে তারা অন্তর্বর্তী সরকার, পুলিশ এবং বিজিবি সদস্যদের দৃশ্যমান ও কার্যকর তৎপরতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান।
তারা বলেন, পক্ষপাতহীনভাবে আইনের প্রয়োগ করে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো অধিকার লঙ্ঘনের প্রচেষ্টাকে আইনানুগভাবে প্রতিহত করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেনাবাহিনী নির্বাচনের সময় যে প্রশংসনীয় নিষ্ঠা ও একাগ্রতায় নিরাপত্তা বিধান করেছে, চলমান সহিংসতার অশুভ ঘটনাগুলো রোধে তারা সেই ধারা অব্যাহত রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জাতি আশা করে। অন্তর্বর্তী সরকার যখন শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন এই ধরনের সংঘাত কোনো অদৃশ্য মহলের কাম্য হলেও বাংলাদেশের জনগণের কাছে তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিজয়ী ও বিজিত সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, শান্তিশৃঙ্খলা এবং নারী, শিশু, সংখ্যালঘু ও আদিবাসীসহ সকল নাগরিকের নিরাপত্তা সুরক্ষায় নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো যেন আপনারা পূর্ণভাবে রক্ষা করেন। সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সহিংসতা পরিহার এবং ভিন্নমতের নিরাপত্তা নিশ্চিতে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমেই জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব হবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী ৩৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক হলেন- ড. হামিদা হোসেন, অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, আনু মুহাম্মদ, খুশী কবির, ড. ইফতেখারুজ্জামান, রাশেদা কে চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, আবু সাঈদ খান, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, শামসুল হুদা, শাহীন আনাম, তাসলিমা ইসলাম, ড. সুমাইয়া খায়ের, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট তবারক হোসেন, ড. ফস্টিনা পেরেইরা, তাসনিম সিরাজ মাহবুব, রোবায়েত ফেরদৌস, ড. জোবাইদা নাসরীন, ড. ফিরদৌস আজিম, অধ্যাপক, পাভেল পার্থ, অ্যাডভোকেট সালমা আলী, রেহেনুমা আহমেদ, ঈশিতা দস্তিদার, পল্লব চাকমা, মনিন্দ্র কুমার নাথ, কাজল দেবনাথ, সালেহ আহমেদ, পারভেজ হাশেম, রেজাউল করিম চৌধুরী, জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, সাঈদ আহমেদ, দীপায়ন খীসা, মেইনথিন প্রমীলা এবং হানা শামস আহমেদ।
দেশবার্তা/একে