দেশবার্তা প্রতিবেদক

অর্থ-বাণিজ্য

2026-07-30T15:17:53+00:00
2026-07-30T15:17:53+00:00
শুক্রবার ● ৩১ জুলাই ২০২৬,
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English

শুক্রবার ● ৩১ জুলাই ২০২৬
চলমান বার্তা:
অর্থ-বাণিজ্য
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন
তাপপ্রবাহে বাংলাদেশে ১.৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি, ঝুঁকিতে লাখো চাকরিজীবী
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৭ পিএম 
ফাইল ছবি
তীব্র তাপপ্রবাহ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজার এবং শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্বব্যাংকের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চরম গরমের কারণে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আনুমানিক ১৩০ কোটি থেকে ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় শূন্য দশমিক ৩ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশের সমান। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকায় প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন কর্মসংস্থানের সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের ‘এ লিভেবল ফিউচার: প্রটেক্টিং জবস অ্যান্ড গ্রোথ ফ্রম এক্সট্রিম হিট ইন সাউথ এশিয়াস সিটিজ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর ওপর চরম তাপমাত্রার অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গত ২৯ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে শ্রম উৎপাদনশীলতা দ্রুত কমে যাচ্ছে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে রাজধানী ঢাকা ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকায় প্রতি বছর মোট উৎপাদনশীল কর্মঘণ্টার প্রায় ৩ শতাংশ কার্যত হারিয়ে যাচ্ছে। এর অর্থ প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৮০ সালের মধ্যে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে। তখন রাজধানীর মোট কর্মঘণ্টার প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশই চরম গরমের কারণে হারিয়ে যেতে পারে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, দিনের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলেই শ্রম উৎপাদনশীলতার ক্ষতি আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে শুরু করে। ফলে নির্মাণ, পরিবহন, কৃষি এবং উৎপাদনমুখী শিল্পের মতো খাতে কর্মরত শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

বিশেষ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের যৌথ বিশ্লেষণের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাপজনিত কারণে শ্রম উৎপাদনশীলতা কমতে থাকলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার পোশাক খাত ২০৩০ সালের মধ্যে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬ হাজার ৫৮০ কোটি মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।

তবে বিশ্বব্যাংক মনে করছে, যথাযথ পরিকল্পনা ও লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড-এর উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ও পানির দক্ষ ব্যবহার এবং কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নের উদ্যোগ ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশনের পার্টনারশিপ ফর ক্লিনার টেক্সটাইল কর্মসূচি এবং টেকসই অর্থায়নও এ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর ফলে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশে পরিবেশবান্ধব লিড সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানার সংখ্যা ২৭০ ছাড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত গরমের কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চাপ বাড়ছে। এর ফলে পোশাক কারখানার নারী শ্রমিকদের ওপর কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও সহিংসতার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কর্মঘণ্টা পুনর্বিন্যাস এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির হিসাবে, চরম গরমের কারণে প্রতিবছর এ অঞ্চলে প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি অন্তত ৭ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে।

একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে প্রায় ২৮ কোটি কর্মক্ষম মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করবেন। কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৭০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় অন্তত ৫২ কোটি মানুষ বছরে এক মাস বা তার বেশি সময় অত্যন্ত বিপজ্জনক তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হবেন, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। পাশাপাশি গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ-এর তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ২০০০ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতে তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে, আর শ্রীলঙ্কায় তা প্রায় চার গুণ বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, "তাপসহনশীল ও খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো শহর গড়ে তোলা কেবল মানুষকে বাড়তি গরম থেকে রক্ষা করার বিষয় নয়। এটি কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শহরগুলোকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে ধরে রাখার কৌশল। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিলে দেশগুলো বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক শহর গড়ে তুলতে পারবে।"

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চরম গরম বাংলাদেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজার এবং নগরজীবনের ওপর আরও বড় চাপ সৃষ্টি করবে। তাই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নগর পরিকল্পনা, শ্রমিকবান্ধব কর্মপরিবেশ এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

দেশবার্তা/আরএইচ


সর্বশেষ সংবাদ 

দিনাজপুরে পক্ষকালব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার সমাপ্তি
২ কোটি রুপির লোভও টলাতে পারেনি সাই পল্লবীকে, কারণ জানলে অবাক হবেন
বন্ধ কারখানা চালু করে বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা
সরকারের কত সন্ত্রাসী আছে, আমরা দেখবো: নাহিদ ইসলাম
কাফকোর কাছ থেকে ১৩২ কোটি টাকার ইউরিয়া সার কিনবে সরকার

সর্বাধিক পঠিত 

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আইন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত
গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
কুমিল্লায় শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটক
‘পাতার বাঁশরি’র পেছনের গল্প ও নিজের ভাবনা জানালেন সুনিধি
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ গ্রেপ্তার
অর্থ-বাণিজ্য- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
আহমেদ টাওয়ার ( লেবেল ১২),২৮ ও ৩০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ
বনানী, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। শামীম প্রিন্টিং প্রেস, ১৯৪/৫ ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা -১০০০ থেকে মুদ্রিত।
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]