চৈত্র মাস বিদায় নিতে চলেছে। আর মাত্র কদিন পরেই বাংলা নববর্ষ, বরণ করে নেওয়া হবে নতুন বছর ১৪৩৩-কে। তবে ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে প্রকৃতি যেন কিছুটা অস্থির হয়ে উঠেছে। বিদায়ী চৈত্রের প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই দেশের কোথাও না কোথাও কালবৈশাখী, শিলাবৃষ্টি আর বজ্রপাত হানা দিয়েছে। মাঝখানে ঈদুল ফিতরের পর যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও ঢাকাসহ ২৭টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। গত এক সপ্তাহের কালবৈশাখীর তাণ্ডবে জনজীবনে স্বস্তি ফিরলেও নতুন দুঃসংবাদ দিচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আপাতত কিছুদিন স্বস্তির আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা কম। পয়লা বৈশাখের আগপর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টির দাপট কমে আসতে পারে। এর প্রভাবে বাড়তে শুরু করবে পারদ।
আজ শনিবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য এবং রাতের তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আজ থেকে সোমবার (১৩ এপ্রিল) পর্যন্ত সারা দেশে কালবৈশাখীর বড় কোনো আশঙ্কা নেই। তবে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে বিচ্ছিন্নভাবে ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের বাকি অংশ শুষ্ক থাকায় গরমের তীব্রতা অনুভূত হবে।
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, নববর্ষের আগে সারা দেশে বড় ধরনের ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে পয়লা বৈশাখের দিন ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে হালকা বা বিচ্ছিন্ন বৃষ্টি হতে পারে। ওই সময় দেশের পশ্চিমাঞ্চল বিশেষ করে যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ সকালে রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ১৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরের হিমেল হাওয়ার পরশ থাকলেও মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে বইতে শুরু করেছে গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা।