দেশবার্তা প্রতিবেদক

জাতীয়

2026-07-29T15:32:04+00:00
2026-07-29T15:32:04+00:00
শুক্রবার ● ৩১ জুলাই ২০২৬,
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English

শুক্রবার ● ৩১ জুলাই ২০২৬
চলমান বার্তা:
জাতীয়
পাঁচ মাসেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে জাতীয় কমিশন গঠনের দাবি
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩২ পিএম 
সরকার গঠনের পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হলেও ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ করেছেন নাগরিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। 

তারা বলেছেন, দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক সমস্যার টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে সরকারকে অবিলম্বে সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে একটি জাতীয় কমিশন গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পাঁচ মাস: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতির মূল্যায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব বক্তব্য উঠে আসে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের অন্যতম সদস্য দীপায়ন খীসা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফি রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের ফজলুল রশিদ ফিরোজ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার আলোকে প্রতিটি জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগণের ক্ষেত্রেও সেই নীতি প্রযোজ্য। 

তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তী প্রায় তিন দশকে কোনো সরকারই এর মৌলিক ধারাগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ফলে পার্বত্য অঞ্চলে অবিশ্বাস, বৈষম্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এখনো বহাল রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বহুজাতিক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্র গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবে রূপ দিতে হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে আদিবাসী জনগণের সাংবিধানিক অধিকার, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যার স্থায়ী সমাধান ছাড়া দেশে টেকসই শান্তি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেবল একটি আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও সাংবিধানিক মর্যাদার প্রশ্ন। 

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এ অবস্থায় সরকার, রাজনৈতিক দল, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ এবং বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে একটি জাতীয় কমিশন গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি কোনো একক রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে হয়নি। বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় থাকা সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনার ভিত্তিতেই এ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল। তাই এটি জাতীয় ঐকমত্যের একটি দলিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারও চুক্তি বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে।

বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, দীর্ঘ সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই শান্তিচুক্তি হয়েছিল। কিন্তু প্রায় তিন দশক পরও এর গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। রাষ্ট্র নিজেই যেহেতু এই চুক্তির পক্ষ, তাই এর পূর্ণ বাস্তবায়নের দায়িত্বও রাষ্ট্রের।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফি রতন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম অবহেলিত অঞ্চল। ভূমি বিরোধ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং সংঘাতের পরিবেশ এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। তিনি বলেন, চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় জনগণের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা ফজলুল রশিদ ফিরোজ বলেন, শান্তিচুক্তির প্রায় তিন দশক পূর্ণ হতে চললেও বাস্তবায়নের দাবিতে এখনো আন্দোলন করতে হচ্ছে, যা রাষ্ট্রের জন্য দুঃখজনক। তিনি অভিযোগ করেন, বহুত্ববাদ ও সমঅধিকারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার পূর্ণ প্রতিফলন এখনো দেখা যায়নি।

সভায় লিখিত বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৮০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করলেও সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। 

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন পাহাড়িকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ, চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি পুনর্গঠন, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কার্যকর করা, সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ আয়োজনসহ ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শান্তিচুক্তির অবশিষ্ট ধারাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা, সংলাপ ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।

দেশবার্তা/এসআইএস/একে


সর্বশেষ সংবাদ 

দিনাজপুরে পক্ষকালব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার সমাপ্তি
২ কোটি রুপির লোভও টলাতে পারেনি সাই পল্লবীকে, কারণ জানলে অবাক হবেন
বন্ধ কারখানা চালু করে বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা
সরকারের কত সন্ত্রাসী আছে, আমরা দেখবো: নাহিদ ইসলাম
কাফকোর কাছ থেকে ১৩২ কোটি টাকার ইউরিয়া সার কিনবে সরকার

সর্বাধিক পঠিত 

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আইন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত
গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
কুমিল্লায় শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটক
‘পাতার বাঁশরি’র পেছনের গল্প ও নিজের ভাবনা জানালেন সুনিধি
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ গ্রেপ্তার
জাতীয়- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
আহমেদ টাওয়ার ( লেবেল ১২),২৮ ও ৩০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ
বনানী, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। শামীম প্রিন্টিং প্রেস, ১৯৪/৫ ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা -১০০০ থেকে মুদ্রিত।
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]