বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ দরজায় কড়া নাড়লেও রাজধানীর কেনাকাটার চিরচেনা চিত্রে এবার বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে। প্রতিবছর নববর্ষকে ঘিরে বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত যে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে, এবার সেখানে বিরাজ করছে শুনশান নীরবতা। মূলত তীব্র দাবদাহ এবং দেশজুড়ে চলা জ্বালানি সংকটের দ্বিমুখী প্রভাবে বৈশাখী কেনাকাটায় বড় ধরনের ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর মিরপুর এলাকার প্রধান সড়কগুলোর ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসে থাকলেও ক্রেতার দেখা পাচ্ছেন না বিক্রেতারা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল থেকে মিরপুর ১০, ২, অরিজিনাল ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা ছোটদের পোশাক, বড়দের শার্ট-প্যান্ট, মেয়েদের জামা, কসমেটিকস ও জুতার গ্যালারি সাজিয়ে বসে আছেন। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তীব্রতা বাড়ায় ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য।
বিগত বছরগুলোতে এই সময়ে ফুটপাতে তিল ধারণের জায়গা না থাকলেও এবার বিক্রেতাদের অলস সময় পার করতে দেখা গেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারের পরিস্থিতি অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে নাজুক।
ব্যবসায়ীদের মতে, জ্বালানি সংকটের প্রভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মার্কেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের কেনাকাটার আগ্রহ কমে গেছে। দিনের বেলা অসহ্য গরমের কারণে কেউ বের হতে পারছেন না, আবার সন্ধ্যার যে সময়টিতে ফুটপাত জমজমাট থাকে, তখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কড়াকড়িতে দোকানপাট বন্ধ করতে হচ্ছে।
এছাড়া অনেকে অভিযোগ করেছেন, সাধারণ মানুষ বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পেছনেই বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করছে। জ্বালানি ও তেলের সংকটে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে উৎসবে বাড়তি খরচ করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, ক্রেতাদের মানসিকতায় এবার পরিবর্তন দেখা গেছে। মিরপুর শপিং সেন্টারের সামনে আসা ক্রেতারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ঈদুল ফিতরে বড় অংকের কেনাকাটা শেষ করায় নতুন করে বৈশাখী পোশাক কেনার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছেন না অনেকেই। অধিকাংশ মানুষের পরিকল্পনা হলো ঈদের নতুন পোশাকটিই বৈশাখের দিন ব্যবহার করা। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের কেনাকাটার প্রধান ভরসা ফুটপাতের বাজারগুলো এখন প্রায় জনশূন্য।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে পহেলা বৈশাখের আগে বিক্রির এই মন্দাভাব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
দেশবার্তা/একে