বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন মোট ৭ হাজার ৩০৯ জন ভোটার।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, নিবন্ধন ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্নকারী এসব ভোটারের মধ্যে প্রবাসী এবং দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত বিভিন্ন শ্রেণির ভোটার রয়েছেন।
ইসি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া-৬ আসনে মোট ৩ হাজার ৭৩৬ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৮১ জন এবং দেশের অভ্যন্তরে থাকা ভোটার রয়েছেন ২ হাজার ৪৫৫ জন।
অন্যদিকে শেরপুর-৩ আসনে মোট ৩ হাজার ৫৭৩ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৩৮৩ জন প্রবাসী এবং দেশের ভেতরে অবস্থানরত ৩ হাজার ১৯০ জন ভোটার রয়েছেন।
সব মিলিয়ে দুই আসনে মোট ৭ হাজার ৩০৯ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে অনুমোদিত ভোটারদের কাছে ইতোমধ্যে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া-৬ আসনে এখন পর্যন্ত ৩ জন প্রবাসী ভোটার এবং ৬১৬ জন দেশের অভ্যন্তরের ভোটারের ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে। অন্যদিকে শেরপুর-৩ আসনে এখন পর্যন্ত ১ জন প্রবাসীর ভোট এবং দেশের ভেতরের ১ হাজার ২৪৫ জন ভোটারের ব্যালট জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে। পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ভোট গ্রহণ ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পর কোনো ব্যালট গ্রহণযোগ্য হবে না।
পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা মূলত প্রবাসী ভোটার, সরকারি চাকরিজীবী এবং নির্বাচনী কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানরত ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশন বলছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এই পদ্ধতি ধীরে ধীরে আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, দুই আসনের পোস্টাল ভোটিং কার্যক্রমে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সময়মতো ব্যালট পৌঁছানো এবং ফেরত আসার হার নির্বাচন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কর্মকর্তারা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিকাংশ ভোটই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে যাবে, যা নির্বাচনী ফলাফলে প্রবাসী ও দূরবর্তী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচন ও সাধারণ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে হাজার হাজার ভোটারকে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া নির্বাচন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
দেশবার্তা/একে