জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ। সরকার এই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা করলে সংসদ ভবন ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তারা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগ মোড় প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, বর্তমান সরকার দুই হাজার শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা দেখছি, সরকারে গিয়ে তারা জুলাই সনদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে চাচ্ছে। ৬৪ শতাংশ মানুষের রায়কে উপেক্ষা করার ক্ষমতা সরকারের নেই।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি, জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল যে ঐতিহাসিক দলিলে স্বাক্ষর করেছিল, এখন নিজেদের সুবিধামতো সেই দলিলকে সরকার অবজ্ঞা করতে পারে না।
নাজমুল হাসান আরও বলেন, সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে এবং আন্দোলনকারীদের দায়মুক্তি দিয়েছে, যা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে মানবাধিকার কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যে খেলা শুরু হয়েছে, তা ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না।
অতিবিলম্বে সংসদে জুলাই সনদ আইন বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে লংমার্চ টু ঢাকা বা যমুনা ব্লকেডের মতো কর্মসূচির পর এবার সংসদ ভবন ঘেরাও করা হবে।
বক্তব্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সম্প্রতি গঠিত অ্যাডহক কমিটির তীব্র সমালোচনা করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার মতো বর্তমান সরকারও ক্রিকেট বোর্ডকে রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করছে। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের নিজস্ব দলীয় লোক এবং বিএনপির নেতাদের বিসিবিতে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকে তিনি সরকারের ‘নগ্ন হস্তক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে এর নিন্দা জানান।
দলের সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে সরকারের অবস্থান এখনো অস্পষ্ট। এই টালবাহানা বন্ধ করে শহীদের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। এছাড়া সমাবেশ থেকে সুপ্রিম কোর্টের জন্য আলাদা সচিবালয় গঠন এবং মানবাধিকার কমিশনের বাতিল হওয়া অধ্যাদেশ সংসদে পুনরায় উত্থাপনের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
দেশবার্তা/একে