সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে ‘মক্কা প্যাক্ট’ স্বাক্ষরের পর এবার মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েতের সঙ্গেও কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি গঠন করেছে পাকিস্তান।
বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে আয়োজিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করার লক্ষ্যে গতকাল কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ আল সাবাহ পাকিস্তানে সফরে আসেন। সেখানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফের সঙ্গে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির পর কুয়েতের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই অংশীদারত্বের প্রধান লক্ষ্য হলো উভয় দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতে সহযোগিতার পরিধি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো।
ঘটনাক্রমে, বিদ্যমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ও কুয়েত দুটি দেশই কৌশলগতভাবে জড়িত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ঘাটিগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কুয়েতই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরপক্ষে, এ সংঘাত সূচনার পর থেকে শুরু থেকেই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে পাকিস্তান।
এর আগে, গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবে আয়োজিত এক সম্মেলনে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেয় পাকিস্তান। পবিত্র নগরী মক্কায় স্বাক্ষরিত হওয়ায় আঞ্চলিক গণমাধ্যমে চুক্তিটি ‘মক্কা জোট’ নামে পরিচিতি পায়। জোটটিতে মূলত সৌদির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, তুরস্কের উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও ড্রোনের সুবিধার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাকিস্তানের সামরিক জনবল ও পরমাণু সক্ষমতা।
মক্কা জোট গঠিত হওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে কুয়েতের সঙ্গে এই পৃথক প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করল ইসলামাবাদ।
দেশবার্তা/একে