সরকার অনুমোদিত কার্ডধারী খুচরা সার বিক্রেতাদের সনদ বহাল রাখা এবং সম্প্রতি প্রণীত সার সংক্রান্ত নীতিমালা পুনর্বিবেচনার দাবিতে বরিশালে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল টাউন হলের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে আন্দোলনরত বিক্রেতারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত কয়েকশ সরকারি অনুমোদিত খুচরা সার বিক্রেতা অংশগ্রহণ করেন।
তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি প্রণীত সার সংক্রান্ত নতুন নীতিমালার কারণে সারাদেশের খুচরা সার বিক্রেতাদের সনদ স্থগিত করা হয়েছে। নতুন এই নিয়মে খুচরা বিক্রেতাদের জন্য পৃথক কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি, যা এই খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বক্তারা জানান, বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী খুচরা সার বিক্রেতাদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত দায়-দেনা নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে পূর্বের নিয়মে সার ক্রয়-বিক্রয়ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে সারাদেশে প্রায় ৪৪ হাজার সরকার অনুমোদিত খুচরা সার বিক্রেতা গভীর অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে পড়েছেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তারা দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পৈতৃক সূত্রে ও নিজস্ব বিনিয়োগে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। চাষের মৌসুমে যখন কৃষকের হাতে নগদ অর্থ থাকে না, তখন এই খুচরা বিক্রেতারাই বাকিতে সার পৌঁছে দিয়ে দেশের কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে ঢাল হিসেবে কাজ করেন। বর্তমান নীতিমালা কার্যকর হলে দেশের প্রায় পাঁচ কোটি কৃষক সরাসরি সার সংকটে ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আন্দোলনরত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ তুলে বলেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নীতিমালা প্রণয়নের আগে অংশীজন বা মাঠ পর্যায়ের বিক্রেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা মতামত গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন ও সংসার চালানো এমনিতেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় যদি খুচরা সার ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে হাজার হাজার পরিবার কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হবে।
সমাবেশ থেকে বক্তারা জোর দাবি জানান যে, দেশের কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সরকার অনুমোদিত খুচরা সার বিক্রেতাদের ব্যবসা চলমান রাখতে হবে। অনতিবিলম্বে এই নীতিমালা পুনর্বিবেচনা অথবা সাময়িকভাবে স্থগিত করার জন্য তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রতিনিধি/একে