বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের হাসি, স্বপ্ন, রঙ-তুলি, গান ও কবিতার ছন্দে ব্যতিক্রমী আয়োজনে ভোলায় উদযাপিত হলো মাছরাঙা টেলিভিশনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
একটু ভালোবাসা, স্নেহ, আদর আর স্বীকৃতি পেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও যে তাদের সৃজনশীলতা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারে, সেই বার্তাই উঠে আসে এ আয়োজনে। ঘন বর্ষার স্নিগ্ধ সকালে তারা রঙ-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলে প্রকৃতির নানা রূপ। পাশাপাশি গান ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে, প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পেলে তারাও অন্য শিশুদের মতোই সক্ষম।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে ভোলা শহরের চৌমুহনী এলাকার ভোলাস চিলড্রেন প্রতিবন্ধী কেন্দ্রে মাছরাঙা টেলিভিশনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ, কেক কাটা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে বৈরী আবহাওয়া ও থেমে থেমে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শিশুদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে পুরো কেন্দ্র। সাদা কাগজে কেউ এঁকেছে সবুজ প্রকৃতি, কেউ নদী, আবার কেউ কল্পনার রঙিন প্রজাপতি। প্রতিটি ছবিতে ফুটে ওঠে তাদের নির্মল আনন্দ, কল্পনা আর স্বপ্নের জগৎ। এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা ছিল না, ছিল আত্মবিশ্বাস ও ভালোবাসা খুঁজে পাওয়ার এক অনন্য আয়োজন।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের উৎসাহ দিতে তাদের পাশে দাঁড়ান অতিথিরা। সেখানে জয়-পরাজয়ের চেয়ে অংশগ্রহণের আনন্দই ছিল মুখ্য।
পরে কবিতা আবৃত্তি ও গানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। করতালিতে বারবার উৎসাহিত হয় শিশুরা।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় জুম্মান প্রথম, ইস্রাফিল দ্বিতীয় এবং ছামিয়া তৃতীয় স্থান অর্জন করে। বিজয়ীদের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সব শিশুর হাতেই অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। ছোট্ট এই স্বীকৃতিতেই তাদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে অপার আনন্দ।
পরে শিশুদের নিয়ে কেক কেটে মাছরাঙা টেলিভিশনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক রুহুল আমিন জাহাঙ্গীর, ভোলা আলতাজের রহমান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌস বাহাদুর, ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল হক অনু, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন লিটন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ রায় অপু, সাবেক সহ-সভাপতি জুন্নু রায়হান, ভোলাস চিলড্রেন প্রতিবন্ধী কেন্দ্রের পরিচালক মো. ইব্রাহীমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা মাছরাঙা টেলিভিশনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে বলেন, সত্যনিষ্ঠ, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে চ্যানেলটি দেশের গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে মাছরাঙা টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সামাজিক উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে মাছরাঙা টেলিভিশনের ভোলা জেলা প্রতিনিধি হামিদুর রহমান হাসিব উপস্থিত অতিথিদের অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান।
সবশেষে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রতিবন্ধী কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ফলদ গাছের চারা রোপণ করা হয়।
অনুষ্ঠানটি মনে করিয়ে দেয়, সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু খবর পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নয়; সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও মানবিকতার গল্পও তুলে ধরা। আর সেই ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের রঙেই ভোলায় উদযাপিত হলো মাছরাঙা টেলিভিশনের ১৫ বছরের পথচলা।
প্রতিনিধি/আরএইচ