এক মাসেও এল না ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেপথ্যে কী

দেশবার্তা ডেস্ক

রাজনীতি

দায়িত্ব ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিয়েছিলেন বিদায়ের বার্তা। সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের

2026-09-13T14:03:10+06:00
2026-09-13T14:03:10+06:00
রোববার ● ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
রাজনীতি
এক মাসেও এল না ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেপথ্যে কী
দেশবার্তা ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৩ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
দায়িত্ব ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিয়েছিলেন বিদায়ের বার্তা। সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের নাম পৌঁছেছিল বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে। তাঁর সঙ্গে বর্তমান দুই শীর্ষ নেতার দেখা করার পরপরই নতুন কমিটি ঘোষণার কথা ছিল; কিন্তু এরপর প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও ঘোষণা আসেনি।

শেষ মুহূর্তে কী কারণে আটকে গেল ছাত্রদলের নতুন কমিটি? বিএনপি, ছাত্রদলসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে নতুন করে বিবেচনা শুরু হয়েছে। অপেক্ষাকৃত তরুণদের সামনে আনা হবে, নাকি দীর্ঘদিন আন্দোলনে থাকা অভিজ্ঞ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে- মূল আলোচনা এখন তা নিয়েই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া থেমে নেই। তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের সমন্বয়ে নেতৃত্ব গঠনের চেষ্টা চলছে। এর সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে সংগঠনের ফল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার সক্ষমতা।

শেষ মুহূর্তে যে পরামর্শ

নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার পরপরই নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণার প্রস্তুতি ছিল। প্রথমে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি দেওয়ার চিন্তা করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর সরকারে থাকা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বর্তমান প্রজন্ম, বিশেষ করে ‘জেন-জি’ শিক্ষার্থীদের মানসিকতা, প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় রেখে নেতৃত্ব গঠনের পরামর্শ দেন।

সূত্রটির ভাষ্য, এরপর সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব সামনে আনা এবং দীর্ঘদিন আন্দোলন- সংগ্রামে থাকা অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে ভিন্ন মত আসে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি কে হবেন, সেটি তারেক রহমান মোটামুটি ঠিক করে রেখেছেন। মূল বিবেচনা এখন সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য শীর্ষ পদগুলো নিয়ে। অভিজ্ঞতা, আন্দোলনে ভূমিকা এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ- এই তিন বিষয় মিলিয়ে নেতৃত্ব সাজানোর চেষ্টা চলছে।

তবে অন্য সূত্রগুলো বলছে, শীর্ষ দুই পদে সিনিয়র ও জুনিয়র নেতৃত্বের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। কোন পদে কাকে রাখা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

তরুণ না অভিজ্ঞ, নাকি দুইয়ের সমন্বয়

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র বলেছে, দলের শীর্ষ পর্যায়ে ছাত্রদলকে আরও তারুণ্যনির্ভর করার পক্ষে মত রয়েছে। সংগঠনটির নেতৃত্বে অপেক্ষাকৃত পুরোনো শিক্ষাবর্ষের নেতাদের প্রাধান্য নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনাও আছে।

বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নেতৃত্বের বয়স ও শিক্ষাজীবনের ব্যবধান কমানো এবং নতুন প্রজন্মের ভাষা ও প্রত্যাশা বোঝার জন্য অপেক্ষাকৃত জুনিয়রদের সামনে আনার যুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

তবে তারেক রহমান যাঁদের পরামর্শ নিয়েছেন, তাঁদের সবাই এই মতের সঙ্গে একমত নন। সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র বলেছে, গত ১৫ বছরের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মাঠে থাকা নেতাদের একটি অংশ মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। ছাত্রলীগকে মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা তাঁদের রয়েছে। ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কৌশল সম্পর্কেও তাঁরা জানেন। এই নেতাদের পুরোপুরি বাদ দিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব তুলনামূলক জুনিয়রদের হাতে দেওয়া ঠিক হবে না- এমন মতও তারেক রহমানের কাছে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দুই অবস্থানের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। শীর্ষ দুই পদে একজন তুলনামূলক সিনিয়র ও আরেকজন জুনিয়র নেতাকে রাখার চিন্তা রয়েছে। সিনিয়র নেতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গত দেড় দশকের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

তবে ‘সিনিয়র’ ও ‘জুনিয়র’ বলতে ঠিক কোন শিক্ষাবর্ষ বোঝানো হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। শীর্ষ পদে আগ্রহীদের মধ্যে ২০০৮-০৯, ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা যেমন রয়েছেন, তেমনি ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষেরও অনেকে আছেন।

বিবেচনায় ক্যাম্পাসের ভোটও

ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচনকে শুধু কমিটি পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না বিএনপির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ছাত্রসংসদ নির্বাচনগুলোতে সংগঠনের ফলও নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের আলোচনায় এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা ভালো ফল করেছেন। সেই তুলনায় ছাত্রদলের ফল ছিল দুর্বল। ফলে আগামী ছাত্রসংসদ নির্বাচনগুলোতে সংগঠন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একটি সূত্র বলেছে, এমন নেতৃত্ব আনার পক্ষে মত এসেছে, যাঁরা শুধু দলীয় কর্মসূচিতে নেতা–কর্মীদের সক্রিয় রাখবেন না; সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছেও সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে পারবেন।

শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই

নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় সংগঠনের ভেতরের শৃঙ্খলা ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের সক্ষমতার বিষয়টিও এসেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজনের মূল্যায়ন-ছাত্রশিবিরে কেন্দ্র থেকে নিচের স্তর পর্যন্ত তুলনামূলক সুসংগঠিত নির্দেশনা ও তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। বিপরীতে ছাত্রদল এবং অতীতে ছাত্রলীগে বিভিন্ন নেতা ও পক্ষকেন্দ্রিক গ্রুপ-উপগ্রুপের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। 

তাঁর ভাষ্য, ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বকে শুধু কেন্দ্রীয় কমিটি পরিচালনা করলে হবে না; বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা, মহানগর ও কলেজ পর্যায়ের সংগঠনকেও একই সাংগঠনিক ধারায় পরিচালনার সক্ষমতা থাকতে হবে।

অন্য সংগঠন থেকে এসে ছাত্রদলে জায়গা নেওয়া ঠেকানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। একটি সূত্র বলেছে, অপেক্ষাকৃত জুনিয়র কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার ক্ষেত্রে তাঁর অতীত রাজনৈতিক পরিচয় ভালোভাবে যাচাইয়ের পক্ষে মত রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিকূল সময়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা নেতাদের সাংগঠনিক নিবেদনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

ঘোষণা কবে

রাকিবুল ইসলাম-নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বে বর্তমান কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০২৪ সালের ১ মার্চ। ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর। সে হিসাবে গত ১ মার্চ বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

নতুন নেতৃত্বে কারা আসবেন, সে বিষয়ে তারেক রহমান বিভিন্ন পর্যায় থেকে নাম ও মতামত নিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি নিজেই।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কেন্দ্রিক দুটি সূত্র জানায়, তাঁদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী ছাত্রদলের নতুন কমিটি ‘যেকোনো সময়’ ঘোষণা হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময় তাঁরা জানাতে পারেননি।

এই অপেক্ষার সঙ্গে এখন প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রমে অংশ নিতে তারেক রহমান নিউইয়র্কে যাবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির আরেকটি সূত্র বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র যাত্রার আগে নতুন কমিটি ঘোষণার সুযোগ এখনো রয়েছে। সফরের আগে সিদ্ধান্ত না এলে দেশে ফেরার পর কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন শনিবার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি হয়ে যাবে। নতুন কমিটি হওয়ার আগে আমরা স্বাভাবিক গতিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’ তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

দেশবার্তা/একে


সর্বশেষ সংবাদ 

বিচ্ছেদ গুঞ্জনে জল ঢেলে ভালোবাসার বার্তা রাজ-শুভশ্রীর
জরুরি প্রয়োজনে মিলবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ই-ঋণ’
‘হারমানপ্রীতের সঙ্গে হাত না মেলানো জ্যোতির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত’
ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ৯, আহত অর্ধশতাধিক
অনুমোদনহীন ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত

সর্বাধিক পঠিত 

দুর্নীতির অভিযোগে বিআরটিএ চট্টগ্রাম সার্কেল-১ ডিডির অপসারণ দাবি
ছাত্রদলের ২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মুন্নু মেডিকেল কলেজের শোভাযাত্রা
তেঁতুলিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির উদ্বোধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান
দেশ পুনর্গঠনে তরুণদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
রাজনীতি- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]