ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শনিবারের এসব হামলায় আবাসিক ভবন, দোকানপাট ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ভোর থেকে রাশিয়া প্রায় ৫০০টি ড্রোন ব্যবহার করে দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তার অভিযোগ, সম্মুখসমরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না পেয়ে রাশিয়া এখন ইউক্রেনের অর্থনীতি ও যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকে দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়েছে।
ফ্রন্টলাইন শহর ক্রামাতোরস্কে পৃথক তিনটি হামলায় ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা তিনজন নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় আরও চারজন আহত হন। জিতোমির অঞ্চলের জভিয়াহেল শহরে একটি মুদি দোকানে হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও দুজন।
এ ছাড়া জাপোরিঝিয়া ও ক্রিভি রিহ এলাকায় রুশ হামলায় হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বন্দরনগরী ওদেসায় রাত থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রুশ হামলা অব্যাহত ছিল। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে হামলায় প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। হামলায় আবাসিক এলাকা ও বিভিন্ন অবকাঠামোরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী জাপোরিঝিয়ার একটি ইস্পাত কারখানা, দনিপ্রোর একটি ইস্পাত কমপ্লেক্স এবং ক্রিভি রিহ এলাকার কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। মস্কোর দাবি, ওদেসা ও চর্নোমোরস্ক বন্দরে সামরিক কাজে ব্যবহারের সরঞ্জাম বহনকারী কয়েকটি কার্গো জাহাজও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
এর মধ্যেই রাশিয়ার অভ্যন্তরেও পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইউক্রেন। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সামারা অঞ্চলের তোলিয়াত্তি শহরের একটি কৃত্রিম রাবার কারখানায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় রুশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোন হামলায় কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন।
রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষই নিজেদের হামলা নিয়ে বিভিন্ন দাবি করেছে। তবে এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একে অপরের সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে আসছে।
দেশবার্তা/এমআর