ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪৩ জন আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হওয়া যাত্রীবাহী ফেরিটির সন্ধান পাওয়া গেছে। ফেরিটিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজ অন্যদের উদ্ধারে সাগরে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমন্তানের বাঞ্জারমাসিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। রোববার স্থানীয় সময় ভোররাত ২টার দিকে বাঞ্জারমাসিন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে জাভা সাগরে থাকা অবস্থায় ফেরিটির সঙ্গে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা ফেরিটির সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। একাধিক উদ্ধারকারী নৌযানের পাশাপাশি হেলিকপ্টারও তল্লাশি অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে।
উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও সাগরের পরিস্থিতির কারণে অভিযান পরিচালনায় নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
ইন্দোনেশিয়া প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি দ্বীপরাষ্ট্র। দেশটির বিভিন্ন দ্বীপের মধ্যে যাতায়াতে ফেরি ও যাত্রীবাহী নৌযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিমানযাত্রার তুলনায় নৌপথে খরচ কম হওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াত ও দূরবর্তী দ্বীপে ভ্রমণের জন্য ফেরির ওপর নির্ভর করেন।
তবে দেশটিতে নৌযানের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নৌযানের নিরাপত্তা মান বজায় না রাখা এবং বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে চলাচলের কারণে দেশটিতে প্রায়ই প্রাণঘাতী নৌদুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ ফেরিটির সন্ধান পাওয়ার পর জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন উদ্ধারকারীরা। একই সঙ্গে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দেশবার্তা/এমআর