ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল হয়ে যাওয়া দ্বিতীয় ইউনিটটি দ্রুত মেরামত শেষে পুনরায় চালু করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই রোববার সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে ইউনিটটিতে উৎপাদন শুরু হয়। বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে এটি বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত (সিঙ্ক্রোনাইজেশন) হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে দুপুরের মধ্যেই দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আদানি পাওয়ারের এক বিজ্ঞপ্তিতে রোববার জানানো হয়, গোড্ডা কেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়া দ্বিতীয় ইউনিটটি সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে সফলভাবে চালু করা সম্ভব হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই মেরামত সম্পন্ন হওয়ায় বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে। এতে দুপুরের আগেই বাংলাদেশে পূর্ণ শক্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটির বয়লারে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার পূর্বে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ আসছিল। তবে ত্রুটির কারণে সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে, যার প্রভাবে দেশে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যায়।
প্রাথমিক পর্যালোচনায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন, ইউনিটটি সচল করতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে আদানি কতৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে প্রত্যাশার চেয়ে কম সময়ে মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ভারী বৃষ্টিপাত এবং রেলপথে যানজটের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হলে গোড্ডা কেন্দ্রটির উৎপাদন সাময়িকভাবে কমে যায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উৎপাদন আবারও ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়ায়। ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট মোট উৎপাদন ক্ষমতার এই কেন্দ্রটি বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানির অন্যতম বড় উৎস। দ্বিতীয় ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরায় সারা দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশবার্তা/একে