নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াতের নিশ্চয়তা এখনো মেলেনি দেশের গণপরিবহনে। ভাড়া নৈরাজ্য, যাত্রী হয়রানি, সড়ক দুর্ঘটনা ও ছিনতাই-ডাকাতির মতো ঘটনায় যাত্রী নিরাপত্তাহীনতা বাড়লেও নেই সমাধানে কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, আইন প্রয়োগে শিথিলতা, সংস্থাগুলোর র্দুনীতি ও অনিয়মের কারণে এ খাত এখনো ‘মাফিয়াদের’ নিয়ন্ত্রণে। তাই দেশের বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন এলেও পরিবহন খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আগামীকাল পালিত হচ্ছে ‘যাত্রী অধিকার দিবস’।
দিবসটি উপলক্ষে শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলেছে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বৈশ্বিক যুদ্ধ, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও আইন প্রয়োগে শিথিলতাসহ নানা কারণে দেশে দফায় দফায় বাড়ছে যাত্রী হয়রানি ও ভাড়া নৈরাজ্য। একই সঙ্গে কমছে মানুষের যাতায়াতের নিরাপত্তা। পথে ছিনতাই, সড়কে ডাকাতি, দুর্ঘটনা এবং পরিবহনে বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়েই প্রতিদিন মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে যাত্রী ভোগান্তির অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখছে সংগঠনটি। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে, এ নৈরাজ্য বন্ধ করে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করা জরুরি।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে দাবি সংগঠনটির। সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি ছিনতাই ও ডাকাতির মতো ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। তাদের মতে, নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে হলে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি গণপরিবহনে হয়রানি ও সড়কে অপরাধও বন্ধ করতে হবে।
পরিবহন খাতের অনিয়ম বাড়ার পেছনে আইন প্রয়োগে শিথিলতাকেও দায়ী করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির মতে, আইন থাকলেও যথাযথ প্রয়োগ না হলে অনিয়মকারীদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এ কারণে এবারের ‘যাত্রী অধিকার দিবস’-এর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘যাত্রী অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনি সুরক্ষা ও নিরাপত্তা জরুরি।’
বাংলাদেশে এবার অষ্টমবারের মতো ‘যাত্রী অধিকার দিবস’ পালিত হবে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালন শুরু হয়। ২০১৯ সাল থেকে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতিসহ যাত্রী অধিকার ও সড়ক নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে দিবসটি পালন করে আসছে।
মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি লাঘব, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, যাত্রী হয়রানি রোধ, পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধের দাবি সামনে আনাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য। এ উপলক্ষে যাত্রী অধিকার ও সড়ক নিরাপত্তায় কাজ করা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করবে।
তবে দিবস পালনের পরও পরিবহন খাতের বাস্তব চিত্র কতটা বদলেছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবি, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও পরিবহন খাতে তেমন পরিবর্তন আসেনি। এ খাত এখনো ‘মাফিয়াদের’ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সংগঠনটির মতে, এবারের ‘যাত্রী অধিকার দিবস’ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যাত্রী হয়রানি ও ভাড়া নৈরাজ্য বাড়ছে, অন্যদিকে কমছে যাতায়াতের নিরাপত্তা। এ পরিস্থিতিতে পরিবহন খাতে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা, আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং যাত্রী অধিকার সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।
দেশবার্তা/এমআর