আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্ব

2026-03-07T15:17:14+00:00
2026-03-08T12:43:32+00:00
শুক্রবার ● ৩১ জুলাই ২০২৬,
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English

শুক্রবার ● ৩১ জুলাই ২০২৬
চলমান বার্তা:
বিশ্ব
ইরানি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ‘থাড’ রাডার ধ্বংস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৩:১৭ পিএম  আপডেট: ০৮.০৩.২০২৬ ১২:৪৩ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড (THAAD)-এর একটি অত্যন্ত শক্তিশালী রাডার ইরান ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই এএন/টিপিওয়াই-২ (AN/TPY-2) রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গবেষণা সংস্থা ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিস’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ মার্চ জর্ডানে দুটি পৃথক ইরানি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। যদিও প্রাথমিকভাবে মার্কিন পক্ষ থেকে সেগুলো প্রতিহত করার দাবি জানানো হয়েছিল, তবে পরবর্তী সময়ে প্রাপ্ত স্যাটেলাইট চিত্রে রাডার ও এর সহযোগী সরঞ্জামগুলো পুরোপুরি বিধ্বস্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, থাড রাডারের ওপর এই সফল আঘাত ইরানের অন্যতম বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ব্যবস্থাটি মূলত বায়ুমণ্ডলের কিনারে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম। বর্তমানে এই রাডারটি অকেজো হয়ে পড়ায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের মূল দায়িত্ব এখন ‘প্যাট্রিয়ট’ সিস্টেমের ওপর বর্তাবে। তবে প্যাট্রিয়ট সিস্টেমে ব্যবহৃত পিএসি-৩ (PAC-3) ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আগে থেকেই কম থাকায় সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে পেন্টাগনের ভেতর উদ্বেগ বাড়ছে।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে জানান, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাত্র আটটি থাড ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটি ইউনিটের দাম প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শুধুমাত্র রাডারটির দামই ৩০০ মিলিয়ন ডলার। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১২ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্তত নয়টি ইউনিটের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ইউনিট রয়েছে এবং এই মুহূর্তে কোনো অতিরিক্ত রাডার যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মজুত নেই।

সাধারণত একটি থাড ব্যাটারিতে ৯০ জন সেনাসদস্য, ছয়টি ট্রাক-মাউন্টেড লঞ্চার, ৪৮টি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র এবং একটি টিপিওয়াই-২ রাডার থাকে। এর প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন খরচ প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমাগত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে এই ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টরগুলোর মজুত বিপজ্জনকভাবে ফুরিয়ে আসছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অস্ত্র উৎপাদন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স-এর মতো শীর্ষ প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছে পেন্টাগন। 

এর আগে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি আর্লি ওয়ার্নিং রাডারও ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফলে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ রাডার ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কৌশল নতুন করে সাজানোর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।

দেশবার্তা/একে


সর্বশেষ সংবাদ 

দিনাজপুরে পক্ষকালব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার সমাপ্তি
২ কোটি রুপির লোভও টলাতে পারেনি সাই পল্লবীকে, কারণ জানলে অবাক হবেন
বন্ধ কারখানা চালু করে বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা
সরকারের কত সন্ত্রাসী আছে, আমরা দেখবো: নাহিদ ইসলাম
কাফকোর কাছ থেকে ১৩২ কোটি টাকার ইউরিয়া সার কিনবে সরকার

সর্বাধিক পঠিত 

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আইন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত
গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
কুমিল্লায় শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটক
‘পাতার বাঁশরি’র পেছনের গল্প ও নিজের ভাবনা জানালেন সুনিধি
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ গ্রেপ্তার
বিশ্ব- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
আহমেদ টাওয়ার ( লেবেল ১২),২৮ ও ৩০ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ
বনানী, ঢাকা থেকে প্রকাশিত। শামীম প্রিন্টিং প্রেস, ১৯৪/৫ ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা -১০০০ থেকে মুদ্রিত।
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]