বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে। রাতের আঁধারে শৌচাগারে (টয়লেট) বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে এই মরণফাঁদ পাতা হয়েছিল বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবক এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ বিল্বগ্রাম এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্ত যুবকের নাম হাচান খন্দকার। সে ওই এলাকার বারেক খন্দকারের ছেলে।
ভুক্তভোগী রানু বেগম সোমবার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, তাঁর স্বামী বর্তমানে প্রবাসে থাকায় তিনি কন্যাসন্তান নিয়ে বাড়িতে একা থাকেন। এই সুযোগে প্রতিবেশী হাচান খন্দকার দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে নানাভাবে হেনস্তা করে আসছিল। শৌচাগারের পানির পাত্রে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে রাখাসহ বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ আচরণ করত ওই যুবক।
সর্বশেষ গত রোববার (৮ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে রানু বেগমের জায়ের (ভাসুরের স্ত্রী) দালানের মিটার থেকে প্রায় ৩০ ফুট লম্বা তার টেনে এনে শৌচাগারের দরজায় ও মেঝেতে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে রাখে হাচান। যাতে রাতের আঁধারে রানু বেগম শৌচাগারে প্রবেশ করলেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।
রানু বেগমের জা মাহমুদা বেগম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, সেহরির সময় ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরের দরজার সামনের লাইটটি বন্ধ। বাইরে বের হতেই হাচানকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখি। পরে ভালো করে লক্ষ করতেই টয়লেটে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।
ভুক্তভোগী রানু বেগম বলেন, আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই। একা বাড়িতে আমাকে এভাবে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হবে, তা ভাবতেই পারছি না।
ঘটনার পরদিন থেকেই অভিযুক্ত হাচান খন্দকার তার মুঠোফোন বন্ধ করে এলাকা থেকে আত্মগোপন করেছে। এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। অভিযোগের তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিনিধি/একে