রংপুরের মিঠাপুকুরে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক না পেয়ে পিংকি রায় নামে এক অসহায় নারীকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে পাষণ্ড স্বামী। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে আদালতে যৌতুক ও নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার বিবরনে জানা যায়, উপজেলার সাতানী রাঘবেন্দপুর গ্রামের বীরেন্দ্রনাথ সাহার মেয়ে পিংকি রায়ের সাথে পার্শ্ববর্তী এই মাদপুর আদারহাট গ্রামের অমল চন্দ্রের ছেলে লিটন চন্দ্রের বিগত ০৩,০৭ ২০১৪ ইং সালে হিন্দু শাস্ত্রীয় রীতিনীতি অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়েতে কনের বাবা মেয়ে জামাইকে ৮ লক্ষ টাকা এবং ৫ভরি স্বর্ণালঙ্কার প্রদান করে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই জুয়াড়ু স্বামী জুয়া খেলে ও নেশা করার মাধ্যমে শ্বশুরবাড়ির দেওয়া যৌতুক বাবদ টাকা ও স্বর্ণালংকার গুলো বিক্রি করে শেষ করে দিয়ে পুনরায় ৫ লক্ষ টাকার জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে।
এদিকে বিয়ের পর পিংকি রানীর ফুলজুড়ে আসে ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তান। যার নাম রাখা হয় মুক্তা রায়। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই শিশু কন্যা মুক্তা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। মুক্তার মৃত্যুর পর পিংকির পাষন্ড স্বামী নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়।একপর্যায়ে পিংকি রানী স্বামীর অমানবিক নির্যাতন সইতে না পেরে বাবার বাড়িতে চলে যায়।
এরপর স্থানীয়ভাবে সালিশ মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করা হলেও পিংকির স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের আন্তরিকতার অভাবে গ্রাম্য শালিস ভেস্তে যায়। যার ফলে পিংকি রায় বাদী হয়ে রংপুর বিজ্ঞ আদালতে নারী শিশু ও আইনে মামলা দায়ের করেন।
শুক্রবার পিঙ্কি রায় সাংবাদিকদের বলেন, আমার বাবা আমাদের বিয়েতে ৮ লক্ষ টাকা এবং ৫ ভরি সোনা নৌকার প্রদান করেছিলেন এরপরেও আমার স্বামী আমার কাছে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে আমাকে নিয়মিত নির্যাতন করছিলেন। আমি আমার স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে বাবার বাড়িতে চলে এসেছি। এমনকি আমি ন্যায় বিচার না পাওয়াতে আমার মা হার্ট অ্যাটাক করে মারা যায়।
এ বিষয়ে গ্রামবাসী আত্মীয়-স্বজন ও তার প্রতিবেশী লায়লা বানু জানান, পিংকি রায় বাবার একমাত্র মেয়ে হয় তার বাবা ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন। বিয়েতে নগদ টাকা-পয়সা সহ স্বর্ণালংকার প্রদান করা হয় মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তার বাবা যৌতুক নামক উপঢৌকন গুলো দিয়েছিল। কিন্তু তার মাদকাসক্ত স্বামী নেশা করে ও জুয়া খেলে সম্পূর্ণ টাকা শেষ করে ফেলেছে। তাই পুনরায় যৌতুক না পেয়ে পিংকি রায়কে পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে তার পাষন্ড স্বামী লিটন চন্দ্রের কঠিন শাস্তি দাবি করছি।
প্রতিনিধি/আরএইচ