সময়টা ছিল ২০২৫ সালের জুন মাস। ওই মাসের যে কোনো একদিন ধর্ষণের শিকার হন ঝিকরগাছার এক প্রতিবন্ধী তরুণী। তবে নির্দিষ্ট তারিখ তিনি স্পষ্টভাবে বলতে পারেননি। কারণ, ১৯ বছর বয়সি ওই ভুক্তভোগী একাধারে শ্রবণ, বাক্ ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।
ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়া ওই তরুণী গত মার্চ মাসে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। ঘটনাটি বিভিন্ন সূত্রে জানার পর সাংবাদিকরা তার বাড়িতে যান এবং তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে বিষয়টি ঝিকরগাছা থানার ওসির দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পুলিশ অবগত হয়। এরপর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, আসামি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামের ওই ভুক্তভোগী তরুণীর মা জানান, তার মেয়ে বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী। পান খাওয়ানোর কথা বলে ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ‘কথিত কবিরাজ’ ও ‘ইমাম আব্দুর রহমান’ তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। চার মাস পর মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবার তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। পরে জানা যায়, তিনি অন্তঃসত্ত্বা।
ভুক্তভোগী তরুণী ইশারায় জানান, ‘হুজুর’ তার সঙ্গে খারাপ কিছু করেছেন বলে তিনি বোঝাতে পেরেছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত কথিত কবিরাজ আব্দুর রহমানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলা থেকে তাকে আটক করা হয় এবং পরে ঝিকরগাছা থানায় আনা হয়।
ঝিকরগাছা থানার ওসি শাহ জালাল আলম বলেন, প্রতিবন্ধী তরুণীর ধর্ষণ, অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ও সন্তান জন্মদানের বিষয়টি জানার পর ১২ মে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যাই। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এ খবর পেয়ে ওই রাতেই অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, ১২ মে রাতে অভিযুক্ত নাভারণে অবস্থান করছিলেন। পরে ১৩ মে সকালে মাদারীপুরে চলে যান এবং মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। সেখানে আত্মগোপনে থেকে নতুন বাটন ফোন ব্যবহার করছিলেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি জানান, অভিযুক্ত সৌদি আরবে থাকা ছেলের কাছে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করা হবে।
জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও প্রতিবন্ধীর পরিবার দুর্বল হওয়ায় প্রভাবশালীরা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি গর্ভপাতের পরামর্শও দেওয়া হয়। তবে পরিবার রাজি না হলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তখন মামলা করতে দেওয়া হয়নি। পরে চলতি বছরের ১৯ মার্চ ওই তরুণী একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ