হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় দিনদুপুরে পৃথক দুটি স্থানে একই কায়দায় দুই নারী শিক্ষিকার স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (১৭ মে) সকালে নবীগঞ্জ পৌরসভার জয়নগর এলাকা এবং উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বেতাপুর এলাকায় এ দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ৮টার দিকে নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সুজাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও আউশকান্দি ইউনিয়নের পর্বতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিল্পী রানী পাল স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন।
জয়নগর এলাকার সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা তিন যুবক তার পথরোধ করে। এ সময় তারা পিস্তল ও দেশীয় রামদা দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার কানে থাকা প্রায় সাড়ে ৩ আনা ওজনের স্বর্ণের দুল এবং গলায় থাকা প্রায় ৭ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
অপরদিকে, একই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেতাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লাকী রানী দাস রিকশাযোগে স্কুলে যাওয়ার পথে বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা তিন যুবক তার রিকশার গতিরোধ করে। পরে রামদার ভয় দেখিয়ে তার গলায় থাকা প্রায় ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
শিক্ষিকা শিল্পী রানী পাল জানান, সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে সড়কে কোনো রিকশা না পেয়ে তিনি হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিন যুবক মোটরসাইকেলে এসে পিস্তল ও রামদা দেখিয়ে তার গলার চেইন ও কানের দুল টেনে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, মোটরসাইকেলের চালকের মাথায় হেলমেট থাকলেও অন্য দুজনের মুখ খোলা ছিল। যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীরা কাউকে বিষয়টি জানালে ক্ষতি করারও হুমকি দেয়। ঘটনার পর থেকে তিনি চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজেও তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রজনীগন্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির নেত্রী মোছাম্মৎ শাহীনূর আক্তার চৌধুরী বলেন, একই দিনে একই কৌশলে দুই নারী শিক্ষিকাকে টার্গেট করে ছিনতাইয়ের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে শিক্ষক সমাজের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তিনি দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং নারী শিক্ষকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে দুই শিক্ষিকা বাদী হয়ে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ