পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নরসিংদী জেলার ঐতিহ্যবাহী মাধবদী পশুর হাটে কোরবানির পশুর বেচাকেনা পুরোদমে জমে উঠেছে। সোমবার সকাল থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো হাট এলাকা। দুপুরের দিকে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে কেনাবেচায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটে এবং মানুষ দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। তবে বৃষ্টির রেশ কাটতেই দ্বিগুণ উৎসাহে আবারও জমে ওঠে বিকিকিনি।
ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মাধবদী ও এর আশপাশের স্থায়ী-অস্থায়ী হাটগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে শুরু করেছে ছোট-বড় নানা আকারের পশু। তবে এবারের হাটে মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সরেজমিনে হাট ঘুরে দেখা যায়, বিদেশি বা ভারতীয় জাতের গরুর তুলনায় দেশি জাতের গরুর প্রতিই ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি।
হাটে আসা ক্রেতারা জানান, দেশি গরুর মাংস সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় তারা দেশীয় জাতের গরুকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। দাম তুলনামূলক কিছুটা বেশি হলেও সাধ্যের মধ্যে ভালো মানের গরু পাওয়া যাচ্ছে।
আনোয়ার হোসেন আনু নামের এক ক্রেতা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটি দেশি জাতের দামড়া গরু কিনেছি। গরুটি সুস্থ ও পছন্দমতো হয়েছে।’
তবে হাটে প্রচণ্ড ভিড়ের সুযোগে দালালের দৌরাত্ম্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ক্রেতা। তারা জানান, কোনো দালালের কথায় না গিয়ে তারা নিজেরাই সতর্কতার সঙ্গে দেখে-শুনে পশু কিনছেন।
অন্যদিকে বিক্রেতারাও এবারের বাজার নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী জানান, এবার বিদেশি গরুর সরবরাহ কম থাকায় দেশি গরুর ভালো কদর তৈরি হয়েছে। ফলে তারা আশানুরূপ দামেই গরু বিক্রি করতে পারছেন।
একই চিত্র দেখা গেছে মাধবদী কলেজ রোডের ছাগলের বাজারেও। ছোট ও মাঝারি আকারের ছাগল কিনতে মানুষের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ছাগল ক্রেতারা জানান, সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে অনেকেই গরুর পরিবর্তে ছাগল কোরবানি দিচ্ছেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি থাকায় ছাগল বিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা।
মাধবদী হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বাজারের ইজারাদার কাজী ওয়াসিম বলেন, কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে জাল টাকা, ছিনতাই ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে টাকা লেনদেন ও পশু আনা-নেওয়া করতে পারেন, সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাটে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশি পাহারার পাশাপাশি পুরো হাটে সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
দেশবার্তা/একে