সকালের সূর্য পূব আকাশে উঁকি দেওয়ার আগেই ঘামছে শরীর। দিনের বাকিটা সময়ও কাটছে একই অস্বস্তিতে। অতিরিক্ত গরমের কারণে রাতের ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটছে। দিনের বেলায় ঘর থেকে বের হলে তো কথাই নেই, এমনকি ঘরেও টেকা যাচ্ছে না ভ্যাপসা গরমে। বিশেষ করে যাঁরা জীবিকার তাগিদে মাঠে-ময়দানে বা রোদে কাজ করছেন, তাঁদের অবস্থা আরও কাহিল। সব মিলিয়ে তীব্র গরমে জনজীবনে একধরনের হাঁসফাঁস অবস্থা বিরাজ করছে।
বুধবার ঢাকাসহ দেশের অন্তত ৪৫টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই তাপপ্রবাহ বৃহস্পতিবারও অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, বর্তমানে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর বাইরে চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও নোয়াখালী জেলাও এই তাপপ্রবাহের আওতায় রয়েছে। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার কিছু কিছু জেলা থেকে তাপপ্রবাহের আওতা কিছুটা কমে আসতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আগামী আরও দুই দিন এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টিপাত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে গরম পুরোপুরি কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।
এদিকে গত সোমবার জুন মাসের আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেখানে বলা হয়েছে, চলতি জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে একাধিক লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা আছে, যার মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
সাধারণত দেশে জুন মাসে গড় বৃষ্টিপাত হয় ৪৫৯ মিলিমিটার, যা বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের মাস হিসেবে পরিচিত। দেশে সবচেয়ে বেশি গড় বৃষ্টিপাত হয় জুলাই মাসে, প্রায় ৫২৩ মিলিমিটার। তবে এ বছর এপ্রিল ও মে মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
সাধারণত এপ্রিলকে দেশের সবচেয়ে গরমের মাস ধরা হলেও এবার মাসটিতে ৭৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা বেশ অস্বাভাবিক। এপ্রিলের ওই অতিবৃষ্টির কারণে বিশেষ করে দেশের হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দেশবার্তা/একে