বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে পাবনাকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শহরে রূপান্তর করতে হবে। বর্তমানে শহরটি জলাবদ্ধতা ও ময়লা-আবর্জনার নগরীতে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত না হওয়ায় পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে এবং ভোগান্তি বাড়ছে পৌরবাসীর।
রোববার (৭ জুন) সকাল ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মিলনায়তনে গ্রিন গ্রোথ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘সমন্বিত জলবায়ু কার্যক্রম’ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার কমাতে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প পণ্য মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে হবে। একই সঙ্গে ইটভাটা, চালকল ও যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, পাবনার মতো একটি বৃহৎ জেলা শহরে পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট নেই। যে কয়েকটি রয়েছে, সেগুলোর পরিবেশও ব্যবহার উপযোগী নয়।
বৈঠকে পরিবেশ সংরক্ষণে জীববৈচিত্র্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, সাপ, পাখি ও কচ্ছপসহ বিভিন্ন প্রাণী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এসব প্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ইছামতী নদী বর্জ্য ফেলার কারণে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ পরিবেশ দূষণকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে লাগানো গাছও যথাযথ পরিচর্যার অভাবে টিকে থাকে না। তাই কেবল বৃক্ষরোপণ নয়, সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা পরিবেশপ্রেমী আকাশ কলি দাসের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তারা বলেন, বেড়া উপজেলার এই ব্যক্তি শতাধিক বিঘা জমিতে বাগান গড়ে পাখিদের জন্য উন্মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর ওই সম্পত্তির একটি অংশ স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এছাড়া অবৈধ ইটভাটা, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার পরিবেশ ও সমাজের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন বক্তারা।
সামাজিক সংগঠন ‘মশাল’-এর প্রধান সমন্বয়ক ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমানের সভাপতিত্বে এবং গ্রিন গ্রোথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাহফুজুর শ্রাবণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনেস্কোর জাতীয় কমিশনের প্রোগ্রাম অফিসার ড. হাফিজ ইকবাল।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো. আরিফুল ইসলাম।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তর, পাবনার উপপরিচালক মো. ইউসুফ আলী, পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অঞ্জন কুমার সেন, সমাজসেবা কার্যালয় পাবনার প্রবেশন অফিসার হাফিজ আহমেদ, প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক হাসান মাহমুদ ডি, এশিয়া পোস্টের জেলা প্রতিনিধি রাকিব হাসনাত, দৈনিক পাবনার চেতনার সম্পাদক এস এম আদনান উদ্দিন, পাবনা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাগর আহমেদ, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন পাবনার সদস্য ডা. ওয়াহিদুজ্জামান, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রায়হান নয়ন এবং পাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি মোজাহিদ হোসেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ