নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে গাইবান্ধার ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে ক্লোজ করা হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে পুলিশ প্রশাসন তাকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা ট্রাফিক বিভাগের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মো. আলতাব হোসেন।
জানা গেছে, গত ১৭ জুন রাতের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র ও ট্রাফিক বিভাগ জানায়, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করতেন সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর। এ সূত্রে নিঝুম নামে এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৭ জুন রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভার হরিণমারী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওই নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে অবস্থানকালে স্থানীয়দের হাতে অবরুদ্ধ হন সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর। স্থানীয়রা তাদের অবস্থানের বিষয়টি জানতে পেরে বাসাটি ঘিরে ফেলে এবং বের হতে বাধা দেয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে, ঘটনার পর মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন এবং একটি প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে অভিযুক্তদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না পেলেও শনিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই পুলিশ প্রশাসন সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে ক্লোজ করে।
এ বিষয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মো. আলতাব হোসেন বলেন, “পলাশবাড়ির ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ বিভাগ।”
প্রতিনিধি/আরএইচ