গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বক্তব্য ও আচরণের প্রতিবাদ এবং রাধা গোবিন্দ কালী মন্দির পরিচালনার জন্য একটি বোর্ড গঠনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গাইবান্ধা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা শাখা যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি বিরতি রঞ্জন সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুজন প্রসাদ, সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ দাস অভি, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি রণজিৎ বকসী সূর্য, সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল সাহা, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা আহ্বায়ক বিপুল কুমার দাস, সদস্যসচিব বিষ্ণু কুমার দাসসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পলাশবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ কালী মন্দিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ভগবান রামের মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হলে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসনের উদ্যোগে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই মতবিনিময় সভায় সনাতন ধর্মীয় নেতাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে মানহানিকর ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেন। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, তাঁর এমন বক্তব্য ও আচরণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণ হতে পারে।
এ সময় বক্তারা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দিরের সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে একটি পরিচালনা বোর্ড গঠনের দাবি জানান।
প্রতিনিধি/আরএইচ