‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনায় প্রথমবারের মতো জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) সুফলভোগীদের মাঝে গাছের চারা, ঋণের চেক ও পুরস্কার বিতরণ এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, আবহমান গ্রামবাংলার মানুষের জীবনমান ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। দেশের প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ পল্লী অঞ্চলে বসবাস করেন। উন্নয়ন মানে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়; বরং সমাজের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়াই প্রকৃত উন্নয়ন। তিনি বলেন, পল্লী উন্নয়নে বিআরডিবির পাশাপাশি সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারের বৃক্ষরোপণ উদ্যোগও পরোক্ষভাবে পল্লী উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
ঋণের চেক গ্রহণকারীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, এ অর্থ কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র খামার বা ব্যবসা গড়ে তুলতে পারলে নিজেদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি পল্লী উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), খুলনার উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মণ্ডল। স্বাগত বক্তব্য দেন বিআরডিবির উপপ্রকল্প পরিচালক মো. আবু বিল্লাহ হোসেন। এছাড়া সুফলভোগী সুশীল কুমার পাল এবং সমাজকর্মী মো. হুমায়ুন কবীর বক্তব্য দেন। খুলনা জেলা প্রশাসন ও বিআরডিবি যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বিআরডিবির সুফলভোগীদের মাঝে গাছের চারা, ঋণের চেক ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। এ সময় তিনজন সুফলভোগীর মাঝে মোট ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।
এর আগে সকালে নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কালেক্টরেট চত্বরে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ