দীর্ঘ দিন থেকে মেরামত, সংস্কার, সংরক্ষণ না করায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অসংখ্য স্থানে ধস বা গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গাইবান্ধা সদরের কামারজানি থেকে জেলার সুন্দরগঞ্জের মওলানা ভাসানী সেতু এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার বাঁধটি বর্তমানে ঝুকির মুখে। গত এক সপ্তাহের টানা ভারী বষর্ণে ১৫ কিলোমিটার বাঁধটি অন্তত ৫০টি স্থানে বিশাল আকৃতির ধস বা গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বাঁধটি দিয়ে যান বাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
বিশেষ করে কাপাসিয়া ইউনিয়নের ফুল মিয়ার মোড় হতে লালচামার পর্যন্ত বাঁধটি অবস্থা খারাপ। বড় ধরনের বন্যা হলে পানির স্রোতে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসি। এতে করে বাঁধের বাইরের ১৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কাপাসিয়ার ফুল মিয়ার বাজারের ষাটউদ্ধ ফরমান আলী বলেন, বাঁধটি কবে নাগাদ নির্মাণ করা হয়েছে, তা মনে পড়ে না। তবে এরপর থেকে আর কখনো এটি সংস্কার ও মেরামত করেনি সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ড। সে কারণে দিন দিন মাটি ধসে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ইদানিং বৃষ্টির কারণে বাঁধটির সুন্দরগঞ্জ এলাকায় অনেক গর্ত দেখা দিয়েছে। এখনেই এগুলো মেরামত না করলে বন্যার সময় বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে লাখো মানুষের ক্ষতি হবে।
লালচামার গ্রামের আব্দুল মতিন মিয়া বলেন, বাঁধটিতে যে পরিমানে গর্ত হয়েছে, তাতে করে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। বাঁধটি এখন ঝুঁকিতে রয়েছে। বন্যা আসলে যে কোন সময় ভেঙে যেতে পারে। এটি মেরামত জরুরী হয়ে পড়েছে। কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জু মিয়া বলেন, বাঁধটি নির্মাণের পর থেকে এটি আর মেরামত করা হয়নি। সে কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে টানা বৃষ্টি বাদলের কারণে বর্তমানে বাঁধটি হুমকির সম্মুখিন হয়ে দাড়িয়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে ১৫ ইউনিয়নের লাখো মানুষের বিশাল ক্ষতির হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান বলেন, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে চলমান ১৫ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটির অবস্থা বর্তমানে ভাল না। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ড দেখভাল করেন। এখানে তাদের কোন দায়দায়িত্ব নেই।
উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ভারী বর্ষনের কারনে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বেশ কিছু স্থানে গর্তের সৃষ্টির হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বলা হয়েছে। গাইবান্ধা পানি উন্নযন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন। সংস্কার বা মেরামতের জন্য বরাদ্দ চেয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তাৎক্ষনিক মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।