দীর্ঘ ছয় মাসের নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসার পর সুন্দরবনের আহত রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাঘিনীকে আবার বনে অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ। রোববার (১৩ জুলাই) দুপুর ১টায় সুন্দরবনের আন্ধারমানিক বনাঞ্চলে বাঘিনীটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
খাঁচা খোলার পর বাঘিনীটি কিছু সময় ইতস্তত করে চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে। পরে এক লাফে বনের ভেতরে মিলিয়ে যায়।
বাঘিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য অবমুক্তস্থলের প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ২০টি ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন করেছে বন বিভাগ। আগামী সাত দিন পর এসব ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে বাঘিনীর অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
বাঘিনী অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) আমির হোসেন চৌধুরী, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্লাহ পাটোয়ারী, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. এম এ আজিজ, বন্যপ্রাণী গবেষক আদনান আজাদসহ বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনে শিকারিদের পাতা ফাঁদ উদ্ধারে অভিযান চলাকালে গত ৩ জানুয়ারি বাঘিনীটির ফাঁদে আটকা পড়ার খবর পাওয়া যায়। পরদিন ৪ জানুয়ারি বিশেষজ্ঞ দল ট্রাংকুলাইজার ব্যবহার করে আহত বাঘিনীটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর বাঘিনীটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে।
ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ও অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ জানান, বাঘিনীকে অবমুক্ত করার তিন ঘণ্টা পর বিকেল ৪টার দিকে অবমুক্তস্থল থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, বাঘিনীটি স্বাভাবিকভাবে বনের পরিবেশে চলাচল শুরু করেছে।
বন বিভাগ বলছে, আহত বাঘিনীকে সফলভাবে চিকিৎসা দিয়ে আবার সুন্দরবনে ফিরিয়ে দেওয়া বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
প্রতিনিধি/আরএইচ