গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা এবং কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামের মধ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর একটি সেতু না থাকায় বছরের পর বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই পাড়ের হাজারো মানুষ। সেতুর অভাবে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার করছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগীসহ সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রীপুরের গোসিংগা বাজার এবং কাপাসিয়ার দরদরিয়া—স্থানীয়ভাবে ‘দৌড় ধরিয়া’ নামে পরিচিত—এলাকার মধ্যে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম খেয়া নৌকা। নদীর দুই পাড়ে পাকা সড়ক, ঘনবসতি এবং গুরুত্বপূর্ণ জনপদ গড়ে উঠলেও একটি সেতুর অভাবে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি।
স্থানীয়দের মতে, নদীটি প্রশস্ত হওয়ায় ইঞ্জিনচালিত ও হাতচালিত নৌকার ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ বাধ্য হয়ে এভাবেই পারাপার করছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত বেড়ে গেলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।
এলাকাটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে ঐতিহাসিক দিক থেকেও। কাপাসিয়ার দরদরিয়া গ্রাম বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের পৈতৃক নিবাস হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা নিয়মিত এখানে আসেন। কিন্তু সেতু না থাকায় বাস, অ্যাম্বুলেন্সসহ ভারী যানবাহন সরাসরি চলাচল করতে পারে না, ফলে ভোগান্তি পোহাতে হয় পর্যটক ও স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুর অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে প্রতিনিয়ত সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া থেকে শুরু করে কৃষিপণ্য বাজারজাত করা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে গোসিংগা-দরদরিয়া অংশে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ ও আশ্বাস পাওয়ায় তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সেতুটি নির্মিত হলে গাজীপুরের শ্রীপুর ও কাপাসিয়া উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে দুই উপজেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর একটি আধুনিক সেতু নির্মাণ করা হবে। এতে দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে যুগান্তকারী পরিবর্তন।
প্রতিনিধি/একে