‘সাহিত্য-সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি—গড়ে উঠুক মানবিক পৃথিবী’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬-এর প্রথম দিনের কর্মসূচি শনিবার (২৫ জুলাই) বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিকেল ৫টায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের অস্থায়ী একাডেমিক ভবন-৩-এ রিসোর্স অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. এম এ মুহিত।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম এবং জেড নিউজের সম্পাদক আমিরুল ইসলাম কাগজী। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এম এ মুহিত বলেন, শাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার এক দশক পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকা দুঃখজনক। সরকার নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাসের অনুমোদন ও বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস বক্তা কবি হাসান হাফিজ ‘প্রযুক্তির যুগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষা দর্শন: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট ও সমকালীন পর্যালোচনা’ শীর্ষক বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি মানবিক মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তা, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার আদর্শ ধারণ করে আলোকিত সমাজ গঠনের একটি স্বপ্নযাত্রা। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সাহিত্য-সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি—গড়ে উঠুক মানবিক পৃথিবী’ শুধু একটি প্রতিপাদ্য নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ভিত্তি। স্থায়ী ক্যাম্পাস, আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান উপাচার্য। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। রাত সাড়ে ৮টায় ক্লোজআপ ওয়ান তারকা সংগীতশিল্পী মিজান মাহমুদ রাজীবের পরিবেশনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। পরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড্ডয়ন, পায়রা অবমুক্তকরণ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, নবীনবরণ এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
প্রতিনিধি/আরএইচ