টানা আট দিনের ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের ছয়টি সড়ক বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে সড়ক অবকাঠামো। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, মোট ২১২ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক পুনর্বাসন ও মেরামতে প্রয়োজন হবে প্রায় ৩৭৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
সওজের প্রস্তুত করা ‘বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির সারসংক্ষেপ’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামতের জন্য স্বল্পমেয়াদে ৪৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং দীর্ঘমেয়াদে ৩৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ। এ বিভাগের আওতায় বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ এলাকায় ৭৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ১৭ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ৪৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার জেলা সড়ক।
এছাড়া বান্দরবান সড়ক বিভাগে ৫৬ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১ দশমিক ৭০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, শূন্য দশমিক ৩৫ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ৫৪ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার জেলা সড়ক। বন্যায় জেলার একটি কালভার্ট ও পাঁচটি সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের আওতায় ৫২ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ দশমিক ৫০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ৬ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ২৬ দশমিক ৯২ কিলোমিটার জেলা সড়ক রয়েছে।
কক্সবাজার সড়ক বিভাগে ১৫ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৮৬ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ৩ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ১১ দশমিক ৪ কিলোমিটার জেলা সড়ক রয়েছে।
অন্যদিকে খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগে ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার এবং রাঙামাটি সড়ক বিভাগে ৩ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাঙামাটির ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মধ্যে ১ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, শূন্য দশমিক ৩৩ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ১ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার জেলা সড়ক রয়েছে।
সওজের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত মোট সড়কের মধ্যে ৩৪ দশমিক ৯ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ৩২ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ১৪৫ দশমিক ৯১ কিলোমিটার জেলা সড়ক। অর্থাৎ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই জেলা সড়ক, যেগুলোর ওপর স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন যোগাযোগব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহে আরেফীন জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সম্ভাব্য মেরামত ব্যয়ের প্রস্তাব ইতোমধ্যে সড়ক ভবনে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে তা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতকাজ শুরু হয়েছে। নিজস্ব জনবল ও ইট, বালু, পাথরসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোতে নিয়মিত সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
দেশবার্তা/আইএসআই/একে