আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস উপলক্ষে সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছে বন বিভাগ। বনে ‘বাঘের কেল্লা’ নির্মাণ এবং ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও গবেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সুন্দরবনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন এবং খালের নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় মিঠাপানির উৎস ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এর প্রভাবে হরিণসহ তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাঘের খাদ্যশৃঙ্খলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বনজীবী নুর ইসলাম এবং হরিনগর এলাকার জেলে আকবর আলী জানান, আগের মতো বনে হরিণ কিংবা বাঘের বিচরণ এখন আর তেমন দেখা যায় না। পাশাপাশি বনদস্যু ও চোরাশিকারিদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় এখনো বন্যপ্রাণী শিকারের ঘটনা ঘটছে। এর ফলে বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণের সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনে বাঘের বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ায় বাঘ প্রায়ই লোকালয়ে প্রবেশ করছে, যা মানুষ-বাঘ সংঘাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সাতক্ষীরা উপকূলে বাঘের আক্রমণে ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন কাঠুরে, জেলে ও মৌয়াল।
জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. এম. মনিরুল এইচ বলেন, “বাঘকে শুধু একটি প্রাণী হিসেবে দেখলে হবে না। বাঘ সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের শীর্ষ শিকারি। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, মিঠাপানির সংকট এবং মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ—সব মিলিয়ে বাঘের ওপর চাপ বাড়ছে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় মানুষের জীবিকার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
বন বিভাগের তথ্যমতে, ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুন্দরবনে ৬২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা সুলজ কুমার দ্বীপ বলেন, “মিঠাপানির সংকট দূর করতে বনের ভেতরে কৃত্রিম পুকুর খনন করা হয়েছে। চোরাশিকার প্রতিরোধে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে বাঘের সংখ্যা কিছুটা বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১২৫টিতে পৌঁছেছে।”
প্রতিনিধি/আরএইচ