ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারনামীয় ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। মুন্সীগঞ্জের সদর লঞ্চঘাট ও সাভারের আমিনবাজার এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-১০ ও র্যাব-৪।
সোমবার কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। র্যাব জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে একটি গ্যারেজের মালিককে মারধরের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধানের তথ্য উল্লেখ করে র্যাব জানায়, গ্যারেজ মালিককে মারধরের প্রতিবাদ করায় হামলাকারীদের সঙ্গে এসআই আলতাফ ও তাঁর ছেলে আরিফুলের বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলতাফ নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এতে হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে এসআই আলতাফ তাঁর ছেলের পোশাক কারখানায় আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা সেখানে গিয়ে আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে আনে এবং কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে আলতাফ ও তাঁর ছেলেকে বেধড়ক মারধর এবং কারখানাটিতে ভাঙচুর চালায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালায় র্যাব-১০। সেখান থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত এজাহারনামীয় চার আসামি—আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০) ও ইমরানকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সবার বাড়ি সাভারের আমিনবাজার এলাকায়। গ্রেপ্তার আপনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় তিনটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
অন্যদিকে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের আমিনবাজার এলাকায় পৃথক অভিযান চালায় র্যাব-৪। এতে এজাহারনামীয় আরও চার আসামি—নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), রাকিব মিয়া (২৮), ছাব্বির আহম্মেদ (২৪) ও ওয়াসিমকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
দেশবার্তা/আইএইচই/একে