দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮টা থেকেই শিক্ষার্থীদের মাঝে ভোট দেওয়ার উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিলো, পরিস্থিতি ছিলো শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল। বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা লাইন ধরে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোটগ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো ছিল।
সকালে শাহবাগ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোনো প্রকার জটিলতা ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষর্থীরা তাদের আইডি কার্ড দেখিয়ে ভিতরে ঢুকতে পারছেন। যাদের সঙ্গে আইডি কার্ড ছিলো না, তাদের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ দিয়ে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তবে মানবিক বিবেচনায় ক্যাম্পাসের রাস্তা ব্যবহার করতে পেরেছেন রোগীরা।
শাহবাগে একাধিক হাসপাতাল থাকায় অনেক রোগীকে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বেষ্টনির কাছে আসতে দেখা যায়। তারা ঢাকা মেডিকেল যেতে চাইলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও ঢাবির নিরাপত্তা কর্মীরা রোগীর রিপোর্টসহ বিভিন্ন কাগজপত্র দেখে তাদের ভিতরের রাস্তা ব্যবহারের অনুমতি দেন। এর বাইরেও অনেকে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়।
এসময় ঢাবির শিক্ষার্থী ছাড়াও শাহবাগ এলাকায় ভিড় করেন সাবেক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। তাদের মধ্যেও নির্বাচনী আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। সকলের প্রত্যাশা একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।
সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেখে ভালো লাগছে। আমার সময়েও ডাকসু নির্বাচন নিয়ে অনেক আলোচনা ছিল, কিন্তু বাস্তবে আমরা সেটা দেখতে পাইনি। আজকের দিনে এসে যখন দেখি বর্তমান প্রজন্ম ভোট দিচ্ছে, অংশ নিচ্ছে- তাতে গর্ব হয়। এই চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রথমবারের ভোট দিতে আসা শিক্ষার্থীরা জানান, এই অভিজ্ঞতা তাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ভোট দিয়ে আসা এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোট দিতে পারছেন শিক্ষার্থীরা। তিনি বলেন, এটি আমার প্রথম ভোট, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোট দিতে পেরেছি এতে খুব ভালো লাগছে। কারো কোনো প্রভাব বা চাপ ছাড়াই নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি। আমি যাদের ভোট দিয়েছি আমি চাই তারাই নির্বাচিত হোক এবং আমি বিশ্বাস করি তারাই নির্বাচিত হবেন।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন আমাদের মতপ্রকাশের অধিকার চর্চার একটি বড় সুযোগ, এবং আশা করি নির্বাচিতরা সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মাঝেও দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে বাইরের কেউ ক্যাম্পাসের ভিতরে প্রবেশ করতে পারেননি, তবুও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রবেশ মুখে-আশপাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ।
তারা জানান, ডাকসু শুধু শিক্ষার্থীদের নির্বাচন নয়, এটি দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতীক। এখানে যে সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, তারই প্রতিফলন পরে জাতীয় রাজনীতিতে। আরেকজন বলেন, অনেক বছর পর এমন নির্বাচন হচ্ছে। দেখতে এসেছি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্মক্ষণ।
এদিকে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী পরিবেশ তদারকিতে প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।