মাগুরায় দিন দিন বাড়ছে শীতের তীব্রতা। নতুন করে শুরু হওয়া শৈত্যপ্রবাহ, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত দুই সপ্তাহ ধরে শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সকাল থেকেই সূর্যের দেখা মিলছে না, কুয়াশার কারণে আরও বেড়ে যাচ্ছে শীতের অনুভূতি।
ভোর থেকেই শীত উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে বের হচ্ছেন কিছু কর্মজীবী মানুষ। তবে শীতের তীব্রতায় মাগুরার বিভিন্ন সড়কে ভোরে মানুষের আনাগোনা তুলনামূলকভাবে কম। এ সময় মাগুরা একতা কাঁচা বাজারে সবজি বোঝাই নসিমন চলাচল করতে দেখা যায়। এসব নসিমনে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন ও শিমসহ শীতকালীন সবজি পরিবহন করা হচ্ছে। তীব্র শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে নসিমনের চালকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালাচ্ছেন। কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
রিকশাচালক হাসানুর রহমান বলেন, তীব্র শীতে রাস্তায় বের হতে খুব কষ্ট হয়। সংসারের কথা ভেবে শীত উপেক্ষা করেই কাজ করতে হচ্ছে। সকালে যাত্রী পাওয়া যায় না, বেলা বাড়লেও মানুষ রিকশায় উঠতে চায় না। এতে পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে আছি।
নির্মাণ শ্রমিক মতিয়ার রহমান জানান, গত কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। প্রচণ্ড শীতে অনেক শ্রমিক কাজে আসতে চায় না। তবে আর্থিক সংকটের কারণে শীত উপেক্ষা করেই ইট, বালি ও সিমেন্টের কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষ অফিস-আদালতে যেতে শুরু করলেও বার্ষিক পরীক্ষা শেষে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই।
এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ায় শহরের পুরাতন ও নতুন গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় বেড়েছে। ফুটপাতের দোকানগুলোতে নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ শীতের কাপড় কিনতে ভিড় করছেন। অনেকেই শীত থেকে রক্ষা পেতে কম্বল কিনছেন, কেউ কেউ লেপ-তোষক বানানোর ব্যস্ততায় সময় পার করছেন।
অন্যদিকে, শীত বাড়ায় মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে ছিন্নমূল মানুষরা। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় এবং সরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অবিলম্বে দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, সরকারি বরাদ্দকৃত কম্বল মূলত মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বেসরকারি উদ্যোগে জেলার কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/একে