ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় একটি মারামারি মামলায় প্রায় দুই বছর আগে মারা যাওয়া এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। একই মামলায় আসামি করা হয়েছে এমন একজনকে, যিনি মামলা দায়েরের আগেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারি বিকেলে আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের ধরখার গ্রামে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০ জানুয়ারি ধরখার ইউনিয়নের রানীখার গ্রামের আয়ুব ভূইয়া বাদী হয়ে আখাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলায় ১২ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ধরখার গ্রামের মো. হাবিবুর রহমান (৫৬) কে, যিনি ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। ধরখার ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যু সনদ অনুযায়ী, হাবিবুর রহমান ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ মারা যান। অর্থাৎ, মামলা দায়েরের সময় তিনি জীবিত ছিলেন না।
এছাড়া মামলার ৫ নম্বর আসামি হিসেবে করা হয়েছে রুবেল মিয়া (৩০) নামের এক কাতার প্রবাসীকে। তিনি মামলা রেকর্ড হওয়ার প্রায় ২৫ দিন আগে, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর বিদেশে চলে যান।
এজাহার ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রানীখার গ্রামের আয়ুব ভূইয়ার ভাই আব্দুল্লাহ ভূইয়ার সঙ্গে একই ইউনিয়নের ধরখার গ্রামের মৃত ফজলু মিয়ার ছেলে জসিম মিয়ার (১ নম্বর আসামি) জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে ৯ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আব্দুল্লাহ ভূইয়া ও আলামিন ভূইয়া নামে দুইজন আহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে মামলার ২ নম্বর আসামি ও জসিম মিয়ার বড় ভাই মো. ইসমাইল মিয়া বলেন, “তদন্ত ছাড়াই পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেছে। যারা এলাকায় থাকেন না কিংবা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন, এমন লোকজনকেও আসামি করা হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ আখাউড়া পৌরশহরের দেবগ্রাম এলাকায় বসবাস করি। তারপরও আমাকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম বলেন, “বাদীপক্ষের অভিযোগ এবং তাদের দেওয়া নামের ভিত্তিতেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত শেষে চার্জশিট দেওয়ার সময় যাচাই-বাছাই করে যেসব নাম অপ্রাসঙ্গিক, সেগুলো বাদ দেওয়া হবে।”
প্রতিনিধি/আরএইচ