ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর উদ্যোগে রাঙামাটি–২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের নিয়ে ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রাঙামাটি পৌরসভা সংলগ্ন উন্মুক্ত মঞ্চে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে রাঙামাটি আসনের সাতজন প্রার্থীর মধ্যে চারজন অংশ নেন। তাঁরা উপস্থিত নাগরিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নিজেদের নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
ধানের শিষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, নির্বাচিত হলে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের সমন্বয় নিশ্চিত করবেন।
কোদাল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী এবং রাঙামাটি আসনের একমাত্র নারী প্রার্থী জুঁই চাকমা বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে পরিচ্ছন্ন রাঙামাটি গড়ে তুলবেন। পাশাপাশি ঘুষ ও বেকারত্বমুক্ত জেলা গঠন এবং গ্রাম ও তৃণমূলভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেবেন।
নাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী অশোক তালুকদার বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে রাঙামাটি শহরকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলবেন। একই সঙ্গে হামলা-মামলামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং হেডম্যান ও কারবারিদের উন্নয়নে কাজ করবেন।
গণ-অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী এম এ বাশার বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে একটি মডেল রাঙামাটি শহর গড়ে তুলবেন এবং পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি সুদৃঢ় করবেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে লটারির মাধ্যমে প্রার্থীদের বক্তব্যের ক্রম নির্ধারণ করা হয়। পরে উপস্থিত নাগরিকেরা প্রত্যেক প্রার্থীকে তিনটি করে প্রশ্ন করার সুযোগ পান।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সুজন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার। সংসদ সদস্য প্রার্থীদের দায়িত্ব ও অঙ্গীকারনামা পাঠ করেন অ্যাডভোকেট কক্সী তালুকদার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজন রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট দীননাথ তঞ্চঙ্গ্যা। এ সময় সংগঠনটির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম জিসান বখতিয়ারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশবার্তা/একে