নতুন করে উন্নয়নের গল্প নয়, দেশের জন্য সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা নেছার উদ্দিন নাছিরির আয়োজনে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি রেজাউল করীম বলেন, গত পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ একই ধরনের শাসনের পুনরাবৃত্তি দেখেছে। কিন্তু মানুষ কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ পায়নি।
তাঁর অভিযোগ, গত ৫৪ বছরে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তারা দুর্নীতিতে পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তিনি বলেন, আবার তাদেরই ভোট দিলে একইভাবে দুর্নীতি ও লুটপাট চলবে।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট ভাঙার বিষয়ে তিনি বলেন, আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ইসলামপন্থী দলগুলোকে নিয়ে ‘এক বাক্স নীতি’র ভিত্তিতে একটি জোট গঠিত হয়েছিল, যা পরে ১১ দলে পরিণত হয়। তবে ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি থেকে সরে যাওয়ায় মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই’—এই নীতিতে অবিচল না থাকায় আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে ২৬৮টি আসনে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের ইশতেহার প্রসঙ্গে চরমোনাই পীর বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাদের অন্যতম অঙ্গীকার হলো রাষ্ট্র পরিচালনার সব স্তরে শরীয়াহর প্রাধান্য নিশ্চিত করা। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভালো নীতি, ভালো নেতা ও ভালো আদর্শ থাকলে খলিফা ওমরের মতো শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
তিনি দাবি করেন, বিএনপি জোট কিংবা জামায়াত জোট—কেউই ইসলামকে রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা করতে চায় না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই একমাত্র দল, যারা ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলছে।
জনসভায় হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলাম, দেশ ও মানবতার পক্ষে শান্তির প্রতীক হিসেবে হাতপাখা মার্কায় ভোট দেওয়ার মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন মাওলানা মুফতি হেদায়েতুল্লাহ আজাদী, মুফতি মোস্তাকুন্নবী, মুফতি তৌহিদুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের প্রার্থী মাওলানা জসিম উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা গাজী নিয়াজুল করীম ও মুফতি রেজাউল ইসলাম আবরারসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।
দেশবার্তা/একে