আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে, এখন ভোটগ্রহণের অপেক্ষা। নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে।
জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ২৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫৮ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৭ জন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার জেলায় ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৪৪ জন, যাঁদের বড় অংশ নারী ও তরুণ ভোটার।
সিরাজগঞ্জ-১ আসনটি কাজিপুর ও সদরের একাংশ নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৪ জন। সিরাজগঞ্জ-২ আসনটি সদর ও কামারখন্দ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৮ জন, যার মধ্যে ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৮ জন পুরুষ, ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৬ জন নারী এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জন ভোটার রয়েছেন। সিরাজগঞ্জ-৩ আসন, যা রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলা নিয়ে গঠিত, সেখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৭ জন। এদের মধ্যে ২ লাখ ২২ হাজার ৭৩৭ জন পুরুষ, ২ লাখ ২১ হাজার ৬৮৩ জন নারী এবং ৭ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।
উল্লাপাড়া-সলঙ্গা নিয়ে গঠিত সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৮২১ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮০ জন পুরুষ, ২ লাখ ৩২ হাজার ১২৫ জন নারী এবং ১৬ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। শাহজাদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৩৮৭ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪১২ জন পুরুষ, ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৭২ জন নারী এবং ৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।
জেলার ছয়টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জে এবার বিএনপি ও তাদের দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে দৃশ্যমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) ও সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনে লড়াই জমে উঠেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এম আকবর আলীর বিপরীতে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আলী আলম।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, জনগণ অতীত বিবেচনায় ভোট দেবে এবং বিএনপি ছয়টি আসনেই জয়ী হবে বলে তিনি আশাবাদী। অন্যদিকে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও একই আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায় এবং এবার দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দেবে বলে তিনি আশা করেন।
নির্বাচনকে ঘিরে জেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছয়টি আসনে দায়িত্ব পালন করবেন ১৭ জন নির্বাহী হাকিম, ১ হাজার ৩৭৪ জন সেনাসদস্য, ৯৬ জন র্যাব সদস্য, ৩৬০ জন বিজিবি সদস্য, ১ হাজার ৯৮৪ জন পুলিশ সদস্য এবং ১২ হাজার আনসার সদস্য। পুলিশের কাছে অন্তত ৩০০টি বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা থাকবে। দায়িত্বরতদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদমর্যাদার ছয়জন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানানো যাবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে সিরাজগঞ্জে এখন ভোটের অপেক্ষা। তরুণ ও নারী ভোটারদের অংশগ্রহণই ছয়টি আসনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিনিধি/একে