ম্যানগ্রোভ ও সামুদ্রিক সম্পদ সুরক্ষা এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে মোট ১২ মিলিয়ন ইউরো (বিনিময়মূল্যে প্রায় ১৭১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা) অনুদান দেবে জার্মানি।
এ উপলক্ষ্যে আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) দুই দেশের মধ্যে পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও ইউরোপ উইং প্রধান ড. রোকসানা তারান্নুম এবং জার্মান সরকারের পক্ষে জিআইজেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক গোমবার্ট চুক্তিতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ‘বেটার প্রটেকশন অব ম্যানগ্রোভস, সোয়াম্প ফরেস্টস অ্যান্ড মেরিন এরিয়াস (কানেক্ট)’ নামক প্রকল্পের জন্য ৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা) অনুদান দিচ্ছে জার্মানি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন মৎস্য অধিদপ্তর এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন বন অধিদপ্তর যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করবে।
উপকূলীয় অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদের সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে, ‘এনার্জি এফিশিয়েন্সি ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (ইই৪ডেভ)’ শীর্ষক দ্বিতীয় প্রকল্পের জন্য দেওয়া হবে ৭ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ১০০ কোটি ১২ লাখ টাকা। এটি বাস্তবায়ন করবে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে শিল্পকারখানা ও আবাসিক এলাকায় জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানো এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে অবদান রেখে আসছে জার্মানি। স্বাধীনতাবছরের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটি বাংলাদেশকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরোর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের ১০৯ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ইউরো অনুদানে বাংলাদেশে মোট ১৯টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
দেশবার্তা/একে