একসঙ্গে ৯ সন্তানের জন্ম দিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা মালির হালিমা সিসের সন্তানেরা পঞ্চম বছরে পা দিয়েছে। জন্মের সময় যাদের বেঁচে থাকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ছিল, সেই পাঁচ মেয়ে- কাদিদিয়া, ফাতুমা, হাওয়া, আদামা ও উমু এবং চার ছেলে- মোহাম্মদ ষষ্ঠ, এলহাদজি, উমর ও বাহ এখন পুরোপুরি সুস্থ-সবল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের সব শঙ্কা দূর করে শিশুগুলো এখন স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
২০২১ সালের ৪ মে মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কার একটি হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম হয় এই নয় শিশুর। তখন মায়ের গর্ভাবস্থা ছিল মাত্র ৩০ সপ্তাহ। জন্মকালে একেকটি শিশুর ওজন ছিল মাত্র ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি। অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া ৯টি শিশুরই অলৌকিকভাবে বেঁচে থাকার ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, একসঙ্গে জন্ম নিয়ে সফলভাবে বেঁচে থাকা সর্বাধিক সন্তান হিসেবে তারা বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী। গর্ভাবস্থার শুরুতে চিকিৎসকেরা হালিমার গর্ভে সাতটি শিশুর উপস্থিতি শনাক্ত করেছিলেন। পরে বিশেষায়িত স্ক্যানিংয়ে ৯টি শিশুর অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া যায়। জটিলতা ও ঝুঁকি এড়াতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে মালিয়া থেকে মরক্কোয় স্থানান্তর করা হয়।
নবজাতকদের বাঁচিয়ে রাখতে দীর্ঘ সময় বিশেষায়িত নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। মরক্কোতে টানা ১৯ মাস চিকিৎসকদের কঠোর পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা শেষে নিরাপদে তারা নিজ দেশ মালিতে ফিরে যায়। বর্তমানে রাজধানী বামাকোতে বাবা আবদেলকাদের আরবি, মা হালিমা সিসে ও বড় বোন আরবির সঙ্গেই বেড়ে উঠছে তারা।
পঞ্চম জন্মদিনে সন্তানদের শারীরিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মা হালিমা সিসে। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, বাচ্চারা সবাই সুস্থ এবং আনন্দে আছে। খুব শিগগিরই তারা স্কুলে যাবে। তাদের শিক্ষার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। পাশাপাশি শৈশবটাও যেন আনন্দময় থাকে, সেটিও নিশ্চিত করছি।’
সন্তানদের বৈচিত্র্যময় স্বভাবের কথা উল্লেখ করে হালিমা আরও বলেন, ‘প্রতিটি সন্তানের স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব রয়েছে। কেউ বেশি চঞ্চল ও প্রাণবন্ত, আবার কেউ শান্ত ও পর্যবেক্ষণপ্রবণ। তারা একে অপরকে খুব ভালোবাসে। ছোটখাটো মতবিরোধ হলেও ভাই-বোনদের মধ্যে বন্ধন অনেক গভীর।’
সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস প্রকাশিত নতুন আলোকচিত্রে এই নয় ভাই-বোনের বেড়ে ওঠার প্রাণবন্ত চিত্র ফুটে উঠেছে। ছবিতে ৫ বছর বয়সী শিশুগুলোকে আগের চেয়ে বেশ স্বাস্থ্যবান দেখা যায়। কখনো সবাই একসঙ্গে হাসিমুখে, আবার কখনো ভাই ও বোনেরা আলাদাভাবে ফ্রেমবন্দি হয়েছে।
এক গর্ভে নয় শিশুর জন্ম, সকলের বেঁচে থাকা এবং সুস্থ-সবল অবস্থায় পাঁচ বছর পার করা- সব মিলিয়ে ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক অভাবনীয় সাফল্য। অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে গিয়ে এই নয় শিশুর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ও বিদ্যাচর্চার সূচনা শুধু একটি পরিবারের সাফল্য নয়, মানব ইতিহাসেরই এক বিরল উদাহরণ।
দেশবার্তা/একে