জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটি, সঞ্চালন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও হঠাৎ চাহিদা বাড়ায় দেশে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। পরিস্থিতি মোকাবিলা ও লোডশেডিংয়ের চাপ সুষম করতে ঢাকার বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে তা গ্রামাঞ্চলে পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, দেশে উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি সংকট এবং কারিগরি ও রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যার কারণে উৎপাদন কমে গেছে। এই অবস্থায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ সহনীয় রাখা ও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং এড়াতে ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকো এলাকায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, রাজধানী ঢাকায় লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকশ্রেণির বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং গ্রামের ঘনঘন লোডশেডিং কিছুটা কমানো সম্ভব হচ্ছে।
সংস্থাটির মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন না রেখে সারাদেশে সরবরাহে ভারসাম্য বজায় রাখাই প্রধান লক্ষ্য। জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতা দূর হলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় দেশে ২ হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। ওই সময় ১৬ হাজার ১৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ছিল ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট।
দেশবার্তা/একে