ফেনীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রফি হত্যা মামলায় ঢালাওভাবে ফাঁসির রায় দেওয়ায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মো. মামুনুর রশিদের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁকে অবিলম্বে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
রায়ে অসন্তোষ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেন, বিচারিক আদালতে এভাবে বিচারবিবেচনা ছাড়া ঢালাও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কারণে প্রতিটি আসামির পরিবারের ওপর একটি চরম বিপর্যয়কর প্রভাব (ডিভাস্টেটিং ইফেক্ট) নেমে এসেছে। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা খর্ব করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ে বিতর্কিত এই মামলার মোট ১৬ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এ এস এম সিরাজ উদদৌলা এবং মামলার অন্যতম প্রধান আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম।
এছাড়া হাইকোর্ট চার আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন এবং অপরাধে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন।
উচ্চ আদালতে শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার এস এম মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।
রায় ঘোষণার সময় হাইকোর্টের এজলাস কক্ষে মামলার আসামি ও নিহত নুসরাতের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের মার্চে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলেন নুসরাত। এরপর ওই বছরের ৬ এপ্রিল পরীক্ষার কেন্দ্রেই নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। একই বছরের ২৪ অক্টোবর বিচারিক আদালত মামলার ১৬ জন আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছিলেন।