পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মার্কিন ব্যবসায়ীদের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সোমবার বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘মূলত ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। এর ফাঁকে সরকারের পলিসি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় নতুন যারা এসেছেন, তাদের উনি স্বাগত জানিয়েছেন। বিশেষত মন্ত্রীর (ড. আবদুল মঈন খান) সঙ্গে ওনাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, সেই সুবাদে উনার আসা। আমাদের সরকার, সরকারের পলিসি এবং আমাদের ইশতেহারে যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলো আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গত ৬ মাসে কতদূর নোটিশ করেছি, অগ্রগতি কী, এ বিষয়গুলো নিয়ে মূলত আলোচনা হয়েছে।’
মার্কিন ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মার্কিন ব্যবসায়ীরা পিপিপি মডেলে বিনিয়োগ করতে পারেন। এসব বিষয় মার্কিন রাষ্ট্রদূত আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ করবেন বলে জানিয়েছেন।
দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন সরকারের যে সুসম্পর্ক রয়েছে, তা যেন আরও গভীর হয় এবং সামনের দিনে যেন সেই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, এ ব্যাপারে মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত একমত হয়েছেন। সামনের দিনে দুদেশের সরকার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। আমাদের ওয়াটার সাপ্লাই, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ও রিনিউয়েবল এনার্জিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার ব্যাপারে রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করেছেন।’
এ বিষয়ে পরবর্তীতে সচিব পর্যায়ে ও দুই দেশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় বসবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিনিয়োগ বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, এটি প্রধানত বর্জ্য থেকে জ্বালানি (ওয়েস্ট টু এনার্জি) উৎপাদন খাত হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রচুর ময়লা-আবর্জনা প্রত্যেক সিটি করপোরেশনেই তো ডাম্পিং অবস্থায় আছে। এরই মধ্যে উত্তর সিটিতে চায়নার একটি কোম্পানির সঙ্গে আমরা চুক্তি করেছি, তারা আগামী ১৮-২০ মাসের মধ্যেই সেখানে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ময়লা-আবর্জনা থেকে, মানে ওয়েস্ট টু এনার্জির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দেবে। সেই কাজ চলমান আছে।’
বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এ ধরনের বিষয়গুলো পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক্তিয়ারভুক্ত। তারা কেবল স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত বিষয়াদি নিয়েই আলোচনা করেছেন।
দেশবার্তা/একে