যে সময়কার স্মৃতিচারণ করা হচ্ছে তখন মানিকগঞ্জে কোন বিদ্যুৎ আসেনি। রাস্তাঘাট ভাঙা, তবে খাল, বিল, নদী নালায় ভরপুর। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার জন্য বাহন ছিল নৌকা, লঞ্চ, স্টিমার। রাস্তায় শুকনো মৌসুমে চলা চলের জন্য ছিল ঘোড়ার গাড়ি।
যেহেতু ঢাকা আজিমপুর বড় দায়রা শরীফ আমাদের বাড়ি প্রতি মাসেই কোনো না কোনো অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জ ঢাকায় আসা যাওয়া ছিল। দায়রা শরীফের এলাকা অনেক বড় ছিল । এক একটা অংশে ভিন্ন ভিন্ন নাম ছিল। প্রবেশপথে বিড়াট ফটক এর যে উপর দালানটা দাঁড়িয়ে আছে এটার নাম হলো “ছেমন জাালা”। সামনে এগিয়ে গেলে বায়ে মাজার ডানে বড় হাউজ ওযুর জন্য। আরো এগিয়ে গেলে বায়ে বড় গম্বুজ আলা মসজিদ। ডানে গদ্দিঘর বামে মসজিদ।
মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকা ২টা স্টিমার ছিল ন্যাস্টার ও গোরনা। বেউখা নদী থেকে রাত্রি ৮টায় ছেড়ে সকাল ৮টায় বাদামতলি পৌঁছাত। আব্বা হোল্ডার বিছানা পত্রের সাথে রাতের খাওয়া, পানি, বদনা সব বেঁধে নিতেন, ঘোড়ার (এক্কা) গাড়িতে চড়ে বেউথা এসে স্টিমারে আরোহণ করতেন। আব্বা সকলকে নিয়ে স্টিমারে উঠেই মশারি টাঙিয়ে বিছানা করে ঘরের মত করে অবস্থান নিতেন। এর ভিতরেই খাওয়া, শোয়া হত। মানিকগঞ্জের আম গাছের বহু আম, বস্তায় করে স্টিমারে উঠানো হত।
ঢাকার বাড়িতে প্রতি ঘরে ঘরে ওই আম, কাঁঠাল বিলি করা হত। দায়রা শরীফে প্রবেশ করে আম্মা চলে যেতন অন্দর মহলে। কাজের লোক এসে সমস্ত মালামাল ভিতরে নিয়ে যেত। আব্বা ঘি, মিষ্টি ও আমাকে নিয়ে গদ্দি ঘরে দাদার সাথে দেখা করতেন ও ঘি, মিষ্টি দিতেন। দাদা খুব খুশি হতেন। এরপর মূল ঘরে এসে খাওয়া, বিশ্রাম শেষে বেড়িয়ে পড়তেন ঢাকার সমস্ত আত্মীয় স্বজনের বাড়ির দিকে, সাথে আমি । আরমানীটোলাতে ছিল আব্বার এক নানা।
বিশাল এক বাড়ি একান্নভুক্ত পরিবার। ওখানে সকলের সাথে দেখা করে আব্বা নানার সাথে গল্প গুজব শেষে চলে আসতেন বেচারাম দেওরীতে আব্বার মামার বাড়ি। এখানে সকলের সাথে সাক্ষাৎ শেষে অনেক সময় ইসলামপুর কাজি বাড়ি আব্বার আরেক মামার বাড়ি আসতেন। এরপর চলে যেতন রামকৃষ্ণ মিশন রোড আব্বার একমাত্র জীবিত বোন (ডাকনাম ছিল বাদশা ভালো নাম সৈয়দা আমেনা) কে দেখতে ।
এটা আমার ফুপুর নিজস্ব বাড়ি। বাড়ির নাম “আমেনা লজ” বাড়ির ভিতর বিরাট মাঠ ছিল।
দেশবার্তা/জেএ