স্মৃতি কথা: আমাল ছে বান্তি হায় জিন্দেগি-০৪

সাহিত্য

দুটি সুন্দর মৃত্যু:ট্রেনিং শেষে চাঁদমারি হল। একটি টার্গেটে এক এক করে সবাইকে সঠিক লক্ষ্য রাইফেল দিয়ে গুলি লাগাতে

2026-10-03T14:02:43+06:00
2026-10-03T14:04:48+06:00
সোমবার ● ৫ অক্টোবর ২০২৬,
২০ আশ্বিন ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
সাহিত্য
স্মৃতি কথা: আমাল ছে বান্তি হায় জিন্দেগি-০৪
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০২ পিএম  আপডেট: ০৩.১০.২০২৬ ২:০৪ পিএম
⏲
আলহাজ সৈয়দ আমিন উল্লা
দুটি সুন্দর মৃত্যু: ট্রেনিং শেষে চাঁদমারি হল। একটি টার্গেটে এক এক করে সবাইকে সঠিক লক্ষ্য রাইফেল দিয়ে গুলি লাগাতে হবে। আব্বা বিসমিল্লাহ বলে পরপর কয়েকটি গুলি ছুঁড়লেন এবং প্রত্যেকটি গুলি সঠিক টার্গেটে লেগে গেল। আব্বা সেই গুলি ছোঁড়া প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করলেন। সাব মেজর রাজার ভীষণ কুশি হলেন। আব্বা কে নিয়ে সোজা বললেন, “সবচেয়ে ভালো বন্ধুকটি আপনি দেখে নিন ১০০ টাকার বিনিময়ে। আব্বার একজন পরিচিতজন ছিলেন নাম সূর্য মিয়া। তিনি খুব ভালো শিকারী উনাকে সাথে নিয়ে সবচেয়ে সেরা বন্দুক আইহলি বন্দুকটি বেছে নিলেন।”

স্মৃতি কথা
আমাল ছে বান্তি হায় জিন্দেগি-০৫
দুটি সুন্দর মৃত্যু

আব্বা বলতেন, গতিতেই জীবন। আব্বা অফিসের কাজে যেমন ব্যস্ত ছিলেন ধর্মীয় কাজেও তেমনি। সফর করতেন। নিজে বাজার করতেন। হাঁটতেন অতি দ্রুত। কোনো পরনিন্দা, পরশ্রী কাতরতা, কোনো হিংসা, কোনো কিছুই ওনাকে স্পর্শা করতে পারেনি। পোশাকে আশাকে যেমন পরিচ্ছন্ন অন্তরও ছিলো তেমনি পরিচ্ছন্ন।

আব্বাও আম্মার পরিণয় সূত্রটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। আব্বার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন নাম তার সফির উদ্দিন। উনি পাবলিক সার্ভিস কমিশনে চাকরি করতেন। উনার বিয়ে সংক্রান্ত ব্যাপারে আব্বাকে বলা হয় যে, মানিকগঞ্জের কাজি সাহেবের মেয়ে খুব সুন্দর স্বভাবের, পরহেজগার, পর্দানিশিন, সেই ব্রিটিশ আমলে ১৯৩৯ খ্রি. ১০ম শ্রেণির ছাত্রী। উনাকে দেখার দায়িত্ব নিয়ে আব্বা মানিকগঞ্জে এলেন এবং দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন। বন্ধুর জন্য পাত্রি দেখতে এসে নিজেই প্রস্তাব দিয়ে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হলেন।

স্মৃতি কথা
আমাল ছে বান্তি হায় জিন্দেগি-০৬
দুটি সুন্দর মৃত্যু

আম্মা ছিলেন মিতভাষী, সদালাপী পরহেজগার। সংসার সেবা ধর্ম, স্বামী সেবা, রান্নার নিত্য নতুন স্বাদের শৈল্পিক গুণ অসাধারণ ছিল। ছোট, বড়, ধনি-গরিব সকলের সাথেই আম্মার সুন্দর ব্যবহার, দয়ালু ও দানশীল। যদি কেউ বলতো, আপনার শাড়িটি খুব সুন্দর। আম্মা তৎক্ষণাৎ শাড়িটি তাকে দিয়ে দিতেন। আম্মা কখনও টাকা স্পর্শ করেননি। কিছু প্রয়োজন হলে আব্বাকে বলতেন, আব্বা যেকোনো প্রয়োজন তৎক্ষণাৎ মেটাতেন। কোনোদিন আম্মাকে উচ্চস্বরে কথা বলতে শুনিনি। পাড়ার সমস্ত মেয়েরা আম্মাকে আপা বলে সম্বোধন করতো। মানিকগঞ্জের বাসাটির উঠান ছিল অনেক বড়। 

রোজ বিকালে পাড়ার মেয়েরা আমাদের বাসায় চলে আসতো ও আম্মাকে নিয়ে হাডুডু খেলতো। জোৎস্না রাতে আম্মা পাড়ার মেয়েদের নিয়ে পুকুরে হুল্লোড় করে গোসল করতেন। আম্মার সুরেলা কণ্ঠ ছিল। অমন জ্যোৎস্না রাতে পাড়ার মেয়েরা ও মানিকগঞ্জের সরকারি অফিসারদের স্ত্রী-কন্যারা আম্মাকে নিয়ে মাঠের মধ্যে বসতো আর আম্মা একের পর এক গান করতেন। আমিও এমন আনন্দে ছোটো বেলায় শরিক হতাম। ঘরে আম্মার লাইব্রেরি ছিল। যেখানে প্রচুর সব বিখ্যাত লেখকদের বই ছিল। কলকাতা থেকে বিভিন্ন মাসিক পত্রিকা আম্মার নামে আসতো। অবসর সময় আম্মা প্রচুর বই পড়তেন। রাতে ঘুমাবার আগে আম্মা বই পড়ে শুনাতেন। আমি শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়তাম ।
স্মৃতি কথা

আমাল ছে বান্তি হায় জিন্দেগি-০৭
দুটি সুন্দর মৃত্যু

আব্বা আম্মার পারিবারিক জীবন ছিল ভালোবাসায় পরিপূর্ণ । সকল সময় এক সুখময় পরিবেশ বিরাজ করতো । রুঢ়তা বাকবিতণ্ড বা কোনো দ্বন্দ্ব কিছুই ছিল না। আব্বার জীবন আম্মাকে নিয়ে এতোখানি ভরপুর ছিল যে, আব্বা বলতেন, “তোমার আম্মা আমাকে এমনভাবে রেখেছে যেনো আমি বেহেশতে আছি।”

আকাশে যখন ঈদের চাঁদ উঠতো আব্বা দৌড়ে চাঁদ দেখতে যেতেন। চাঁদ দেখে দোআ পড়তেন, “আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আম্‌নি ওয়াল্ ঈমানি, ওয়াস্ সালামাতি ওয়াল্ ইসলাম, রব্বী ওয়া রব্বুকাল্লাহ”। অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি ঐ চাঁদকে নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে উদিত কর। (হে চাঁদ) আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ।

চাঁদ দেখা শেষে ফিরে এসে আম্মাকে বলতেন, “মুঝে যারা হাসকে কাহো আজ ঈদ মুবারক” আম্মার গালে একটি তিল ছিল খুবই সুন্দর ।
আব্বা বলতেন, কবির ভাষায়— “তোমার ওই তিলের জন্য আমি সামারকান্দ বোখারা বিলিয়ে দিবো।

আব্বা আম্মা অনেক সফর করতেন। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে যেতেন, সাথে আমি, আমার বোন মিনুও যেতাম। আব্বার একটি হোল্ডার ছিল। হোল্ডারে কাপড় চোপড় ভরতেন আর বলতেন, “চলো মুসাফির বানদ গাঁঠরি আজভি জানা কালভি জানা হায়।”
ক্রমশঃ



সর্বশেষ সংবাদ 

শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
মেসির সহায়তায় বছরে ৪০০ শিশু পাবে ক্যানসারের চিকিৎসা
শারীরিক অবস্থার উন্নতি, শুটিংয়ে ফিরতে চান তানিয়া বৃষ্টি
শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে হরমুজ: ইরান

সর্বাধিক পঠিত 

খাবার টেবিলে ওয়ান টাইম প্লেট নামক বিষ
সিডিএমএসের তথ্য মুছে শীর্ষ সন্ত্রাসীকে দায়মুক্তির চেষ্টা
নদীর বুকে নৌকার লড়াই, কালীগঙ্গার দুই পাড়ে মানুষের ঢল
স্মৃতি কথা: আমাল ছে বান্তি হায় জিন্দেগি-০৪
মারামারি ঠেকাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র নিহত
সাহিত্য- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]