রাজধানীর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং এর নিচ দিয়ে চার লেনের রেলপথ নির্মাণে আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের আদেশের পর দীর্ঘ সাত বছর ধরে বন্ধ থাকা মগবাজার-পিয়ারাবাগ অংশের উন্নয়ন কাজ পুনরায় শুরু করতে আর কোনো বাধা নেই।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন।
আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যে চলমান কাজ এবং তার নিচে দিয়ে চার লেন বিশিষ্ট রেলপথ উন্নয়নের কাজ একটি আইনি জটিলতায় বিগত সাত বছর যাবৎ বন্ধ ছিল। আজ ১৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের আদেশের ফলে সাত বছর ধরে বন্ধ থাকা এ উন্নয়ন কাজের পথে আইনি বাধা দূর হলো।
তিনি আরও জানান, আদালত আদেশ দিয়েছেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং তার নিচে চার লেন বিশিষ্ট রেললাইন করতে সরকারের উন্নয়ন কাজ পরিচালনায় কোনো বাধা নেই। এটা রেলওয়ের জায়গা হলেও রিটকারীরা এই অংশের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিয়ারাবাগ, মগবাজার পিয়ারাবাগ অংশের একটু অল্প একটু জায়গা দাবি করেন। এই একই জায়গার দাবিদার বাংলাদেশ রেলওয়েও। এই দাবি এবং পাল্টা দাবির কারণে দীর্ঘদিন পর্যন্ত আসলে এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এই অংশটুকুর ওপর কোনো উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হয়নি।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রিটকারী এ এম মোস্তাফিজুর রহমানের দাবির প্রেক্ষাপটে ২০১৯ সালের প্রথম দিকে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছরের ২৯ মার্চ তার পক্ষে রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। সে সময় ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত না থাকায় সরকার প্রাথমিকভাবে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও কোনো আদেশ মেলেনি। পরবর্তী সময়ে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করা হয় এবং চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর রেলওয়ের পক্ষে রায় ঘোষণা করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের ওই রায় চ্যালেঞ্জ করে এ এম মোস্তাফিজুর রহমান হাইকোর্টে ১৩৮৯২ অব ২০২৬ নম্বর রিট পিটিশন দায়ের করলে গত ২৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ সংশ্লিষ্ট জমিতে স্থিতাবস্থা জারি করেন। ফলে প্রকল্পটির কাজ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
পরবর্তীতে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সেটেলমেন্ট অফিসারের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগে সিভিল মিসলেনিয়াস পিটিশন (নম্বর ৯৯৪ অব ২০২৬) দায়ের করা হয়। অবকাশকালীন বিচারপতির বিশেষ অনুমতি নিয়ে বুধবার বিকেলে শুনানি শেষে আদালত পূর্বের স্থিতাবস্থার আদেশ তুলে নেন।
দেশবার্তা/একে