‘উপজাতি’ মুছে ‘আদিবাসী’ পরিচয় প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে কী?

এ এইচ এম ফারুক

মতামত

একটি একক, অখণ্ড ও সার্বভৌম ভূখণ্ড হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান সুনির্দিষ্ট। অথচ ভৌগোলিক আয়তনের দশমাংশ জুড়ে থাকা পার্বত্য

2026-08-06T15:12:48+06:00
2026-08-06T15:12:48+06:00
শুক্রবার ● ৭ আগস্ট ২০২৬,
২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
 ইপেপার   ভিডিও 

শুক্রবার ● ৭ আগস্ট ২০২৬
চলমান বার্তা:
মতামত
‘উপজাতি’ মুছে ‘আদিবাসী’ পরিচয় প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে কী?
এ এইচ এম ফারুক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১২ পিএম 
এ এইচ এম ফারুক সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক
একটি একক, অখণ্ড ও সার্বভৌম ভূখণ্ড হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান সুনির্দিষ্ট। অথচ ভৌগোলিক আয়তনের দশমাংশ জুড়ে থাকা পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী দীর্ঘকাল ধরে ভূ-রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা জিইয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ অঞ্চলের মূল সংকটটি শুরুতে ‘স্বায়ত্তশাসন’ দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) ঐতিহাসিক ‘পার্বত্য চুক্তি’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পথরেখা তৈরি হয়।

এই চুক্তিতে উপনীত হতে রাষ্ট্রকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে উপজাতীয় নেতাদের দাবিসমূহ নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার যে সূচনা ঘটেছিল, পরবর্তীকালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকার ৯ বছরে ৬ বার, বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯১ সালের সরকার ৫ বছরে ১৩ বার এবং ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠিত ‘জাতীয় কমিটি’র মাধ্যমে ৭ বার—সর্বমোট ২৬ বার আনুষ্ঠানিক সংলাপ সম্পন্ন করে। আন্তর্জাতিক মনোযোগের প্রেক্ষাপটে চূড়ান্ত হওয়া এই চুক্তিতে উপজাতীয় প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

তবে সংকটের নতুন অধ্যায় শুরু হয় ২০০৭ সালে জাতিসংঘের ‘আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র’ (ইউএনডিআরআইপি) প্রবর্তনের পর। এরপর থেকেই একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী হঠাৎ করে নিজেদের ‘উপজাতি’ পরিচয়ের বদলে ‘আদিবাসী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার নতুন তৎপরতায় লিপ্ত হয়, যা মূলত শব্দগত ও আইনি পরিচয় নিয়ে এক জটিল বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, ১৯৯৭ সালের চুক্তির প্রধান স্বাক্ষরকারী হিসেবে পিসিজেএসএস এবং এর শীর্ষনেতা সন্তু লারমা পূর্ণ জ্ঞান ও সম্মতির ভিত্তিতেই নিজেদের ‘উপজাতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দলিলে সই করেছিলেন। চুক্তি সম্পাদনের দীর্ঘ এক দশক পর ২০০৭ সাল থেকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হঠাৎ এই ‘আদিবাসী’ তকমা প্রতিষ্ঠার মরিয়া চেষ্টা কেন? যে গোষ্ঠী সাড়ে তিন দশক আগে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের 'উপজাতি' হিসেবে পরিচয় দিয়ে চুক্তি করল এবং রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহণ শুরু করল, আজ তারা কেন ভিন্ন পরিচয়ের জন্য সোচ্চার? এর অন্তরালে কৌশলগত কী ভূ-রাজনৈতিক অভিসন্ধি লুকিয়ে রয়েছে?

চুক্তির আইনগত ভিত্তি ও প্রামাণিক পরিচয়
১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির মূল গঠন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এর ‘ক’ খণ্ডের ১ নং অনুচ্ছেদে সমগ্র পার্বত্য এলাকাকে স্পষ্ট ভাষায় ‘উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘খ’ খণ্ডের ১ নম্বর ধারায় সুনির্দিষ্ট করা হয় যে, পার্বত্য জেলার পরিষদসংক্রান্ত আইনে ‘উপজাতি’ অভিধাটি বহাল থাকবে। পুরো চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে অন্তত ৫০টি স্থানে ‘উপজাতি’ বা ‘উপজাতীয়’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং সন্তু লারমাসহ উপজাতীয় প্রতিনিধিরা প্রতিটি ধারায় সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষর করেছেন।

পরবর্তী সময়ে এই চুক্তির আইনি বাধ্যবাধকতা থেকেই গঠিত হয় তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন-১৯৯৮, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ আইন-১৯৯৮ এবং পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন-২০০১ (সংশোধিত ২০১৬)। এই সবকটি সংবিধিবদ্ধ আইনি দলিলেই ‘উপজাতি’ শব্দটিকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সংলাপে নিজেদের আইনি মর্যাদা ‘উপজাতি’ মেনে নিয়ে যিনি ও যে সংগঠন বিগত প্রায় তিন দশক (প্রায় ২৯ বছর) ধরে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের পদসহ নানাবিধ সরকারি সুবিধা ভোগ করে আসছেন, আজ তাদের মুখে 'আদিবাসী' দাবির সুর তোলা একটি চরম বৈষম্যমূলক ও আত্মবিরোধী অবস্থান।

জনসংখ্যাভিত্তিক সমতা ও প্রশাসনিক বৈষম্যের বাস্তব চিত্র
পার্বত্য অঞ্চলের জনসংখ্যাগত চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ অধিবাসীর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি (৫১ শতাংশ) বাঙালি নাগরিক। অন্যদিকে অবাঙ্গালি উপজাতি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মিলিত জনসংখ্যা প্রায় ৪৯ শতাংশ, যার মধ্যে বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী চাকমাদের হার প্রায় ২৫ শতাংশ এবং মারমা, ত্রিপুরাসহ বাকি জনগোষ্ঠী মিলে ২৪ শতাংশ।

অথচ, পাহাড়ে যে প্রশাসনিক কাঠামো প্রবর্তন করা হয়েছে, তা ডেমোগ্রাফিক বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত এবং নাগরিক সমতার পরিপন্থী। অ-উপজাতীয় বা বাঙালিরা মোট জনসংখ্যার ৫ ১ শতাংশ হওয়া সত্ত্বেও জেলা পরিষদগুলোর নেতৃত্বে তাদের মাত্র ৩৩ শতাংশ (এক-তৃতীয়াংশ) প্রতিনিধিত্বের বিধান রাখা হয়, আর ৪৯ শতাংশ উপজাতীয়দের জন্য রাখা হয় ৬৭ শতাংশ স্থান। বাস্তবে এই সংস্থানটুকুও রক্ষিত হচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ, বৈষম্যবিরোধী সরকারের মেয়াদে পুনর্গঠিত ১৫ সদস্যের পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে অ-উপজাতীয় বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব গড়ে মাত্র ৪ জনে (২৬ শতাংশ) নামিয়ে আনা হয়েছে, যেখানে উপজাতিদের জায়গা দেওয়া হয়েছে ১১ জন (৭৪ শতাংশ)।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও চিত্রটি একই রকম হতাশাজনক। ২০২৪ সালের নভেম্বরে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতাধীন সিএইচটি-ইউএনডিপির একটি যৌথ প্রকল্পে ১৯টি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখা যায়, মাত্র ২ জন (১০ শতাংশের কম) বাঙালি নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ অবশিষ্ট ১৭টি পদই (৯০ শতাংশের বেশি) দেওয়া হয়েছে উপজাতীয় প্রার্থীদের। অর্থাৎ, যেখানে সম অধিকারের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে জনসংখ্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও পাহাড়ের বাঙালি জনগোষ্ঠীকে মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে পদ্ধতিগতভাবে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে।

‘আদিবাসী’ সংজ্ঞায়নের আড়ালে ভূ-রাজনৈতিক চক্রান্ত
আন্তর্জাতিক আইন ও বৈশ্বিক সনদে (যেমন: আইএলও কনভেনশন ১৬৯ ও ইউএনডিআরআইপি) ‘আদিবাসী’ বা ‘ইনডিজেনাস’ পরিচয়ের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি পরিণতি রয়েছে। কোনো জনগোষ্ঠী ‘আদিবাসী’ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে ওই অঞ্চলের ওপর তাদের ‘আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার’ (সেলফ-ডিটারমিনেশন) এবং প্রথাগত ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রত্যক্ষ ফলস্বরূপ মূল রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সংকুচিত হয় এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা আন্তর্জাতিক বৈধতা লাভ করে।

অথচ নৃতাত্ত্বিক বিচার ও ঐতিহাসিক দলিল প্রমাণ করে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো (যেমন: চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা) বিভিন্ন ঐতিহাসিক সময়ে প্রতিবেশী মিয়ানমার (আরাকান), ভারত বা ত্রিপুরা অঞ্চল থেকে স্থানান্তরিত হয়ে এ দেশে বসতি স্থাপন করেছে। এই ভূখণ্ডের আদি ও প্রকৃত অধিবাসী বা ভূমিপুত্র হলো বাঙালিরা। ফলে আন্তর্জাতিক সংজ্ঞার নিরিখেও পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো 'আদিবাসী' পদের যোগ্য নয়; তারা মূলত 'উপজাতি' বা 'ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী'।

১৯৯৭ সালে প্রশাসনিক ও আঞ্চলিক সুযোগ-সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে তাঁরা উপজাতি পরিচয়ে চুক্তিবদ্ধ হলেও, ২০১১ সালে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ ৬(২) ও ২৩(ক) অনুযায়ী দেশের সব নাগরিককে ‘বাঙালি’ এবং অন্যান্য গোষ্ঠীকে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, নৃগোষ্ঠী বা উপজাতি’ হিসেবে নির্ধারণ করার পর তারা নতুন কৌশল গ্রহণ করে। বর্তমানে 'আদিবাসী' ধারণাকে ঢাল বানিয়ে বহির্বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য পার্বত্য চট্টগ্রামকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি স্বাধীন বা স্বশাসিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা। পাহাড়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা, আলাদা মানচিত্র, পতাকা ও মুদ্রার মতো বিষয়ের প্রকাশ তাদের সেই দূরভিসন্ধিরই স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও আইনি বাধ্যবাধকতা
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন ও চুক্তির বেশ কিছু ধারার সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট (মামলা নম্বর ২৬৬৯/২০০০ এবং ৬৪৫১/২০০৭) দায়ের করা হয়েছিল। শুনানি শেষে ২০১০ সালের ১২ ও ১৩ এপ্রিল তৎকালীন মাননীয় বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এক যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ আইনের ৪০ ও ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদ বাংলাদেশের একক রাষ্ট্রীয় সত্তাকে (ইউনিটারি স্টেট) ক্ষুণ্ন করে এবং তা সংবিধানের ১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত মূল কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে আদালত আঞ্চলিক পরিষদকে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং জেলা পরিষদ আইনের কিছু ধারাকে বাতিল করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, জেলা পরিষদ আইনের ৬ নম্বর ধারায় কোনো নাগরিক 'উপজাতীয়' নাকি 'অ-উপজাতীয়', তা নির্ধারণের একক ক্ষমতা সার্কেল চিফ ও হেডম্যানদের ওপর ন্যস্ত করা বৈষম্যমূলক এবং তা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ২৮(১), ২৯(১) ও ৩১-এর পরিপন্থী। এই বিধানের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালি নাগরিকরা স্থানীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার এবং ভূমির অধিকার থেকে বেআইনিভাবে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। বর্তমানে রিট মামলাটি উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) অপেক্ষায় রয়েছে।

টেকসই শান্তির পূর্বশর্ত
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মূল অঙ্গীকার ছিল পিসিজেএসএস-এর সশস্ত্র সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন, সমুদয় অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ সমর্পণ এবং সঠিক তালিকা হস্তান্তর। কিন্তু বিগত আড়াই দশকেও তারা অস্ত্র সমর্পণ করেনি, বরং পাহাড়ে চাঁদাবাজি ও অস্ত্র প্রদর্শনী অব্যাহত রেখেছে। মূল পিসিজেএসএস ভেঙে এখন ৪টি উপদলসহ অন্তত ৭টি সশস্ত্র সংগঠন পুরো পার্বত্য অঞ্চলে নিজেদের ত্রাসের রাজত্ব বজায় রেখেছে।

রাষ্ট্র প্রদত্ত কোটা সুবিধা, বিশেষ সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং আঞ্চলিক পরিষদের শীর্ষ পদসহ যাবতীয় সুবিধা 'উপজাতি' পরিচয়ে গ্রহণ করার পর, এখন আন্তর্জাতিক মহলের মদদে 'আদিবাসী' পরিচয় দাবি করা একটি গভীর চক্রান্ত ও আত্মপ্রবঞ্চনা বৈ কিছু নয়।

ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে যখন সব ধরনের বৈষম্য দূর করার তাগিদ সৃষ্টি হয়েছে, তখন পার্বত্য অঞ্চলের ৫১ শতাংশ বাঙালিকে অধিকারবঞ্চিত রেখে সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। ‘উপজাতি’ বনাম ‘আদিবাসী’ কৃত্রিম বিতর্ক বন্ধ করে সংবিধান ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে পাহাড়ে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের—বাঙালি ও অবাঙ্গালি নির্বিশেষে—সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। তা না হলে, ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের আড়ালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার যে নীলনকশা চলছে, তা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

লেখক: এ এইচ এম ফারুক
সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক।


সর্বশেষ সংবাদ 

এসএসসির ফল সোমবার, এসএমএস ও ওয়েবসাইটে জানা যাবে যেভাবে
তনু হত্যা: সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের জামিন স্থগিত
মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকা স্মৃতি কথা
চট্টগ্রাম বন্দরে মেয়াদোত্তীর্ণ পাঁচ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস
থাইল্যান্ডের ১ নম্বর কফি চেইন এখন বাংলাদেশে

সর্বাধিক পঠিত 

বরগুনায় সামারি ট্রায়ালে ছয়জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা
আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্ডোতে বাংলাদেশের বড় সাফল্য
যদি সত্যিই ভালোবাসতে
প্রধানমন্ত্রী বাজেটে দেশীয় সংস্কৃতি ও শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন
রাজশাহীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন
মতামত- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]