বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ও জাসাসের সাবেক সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী বলেছেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দর্শন এবং রাজনৈতিক চেতনা ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশীয় সংস্কৃতি ও শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করেছেন। এ বাজেট বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের সংস্কৃতি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন জাগরণের সৃষ্টি হবে। রোববার শিল্পকলা একাডেমিতে দেশ নাট্যদলের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে ‘দেশ নাটক’-এর ১৬তম প্রযোজনা 'হাজিরান মজলিস'-এর মঞ্চায়ন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী আরো বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টির বিকাশকে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, নিজস্ব ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের লালন ছাড়া একটি জাতি আত্মমর্যাদাশীল হতে পারে না। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে ধর্ম, বর্ণ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষের সংস্কৃতি ও জীবনধারাকে একত্রিত করে একটি স্বকীয় জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও সংস্কৃতিদেশের স্বকীয় ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার আলোকে তিনি সংকীর্ণতা বাদ দিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতির রূপরেখা টানেন। তার আমলে সাধারণ মানুষের আবহমানকালের লোকজ সংস্কৃতি, শিল্প, সাহিত্য ও ঐতিহ্যকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি ছাড়াও অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নিজস্ব কৃষ্টি ও ভাষাকেও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্থান দেওয়া হয়।
রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশীয় সংস্কৃতিকে সবার আগে প্রাধান্য দিয়েছেন। সে অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন, বাজেট করেছেন। এভাবেই বাংলাদেশ তার নিজস্বতা নিয়ে বিশ্ব পরিমণ্ডলে আপন সংস্কৃতিতে বলীয়ান হয়ে ওঠবে।
আলেচনার পর নাটক হাজিরান মজলিশ মঞ্চস্থ হয়। নাট্যকার মোহাম্মদ নাজমুল হক বাদলের চমৎকার লেখনী এবং নির্দেশক কামাল মাহফুজুল হাদীর সময়োপযোগী নির্দেশনায় নাটকটি উপস্থিত দর্শকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে। সমসাময়িক সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের গল্প নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘হাজিরান মজলিস’-এর মূল উপজীব্য। শিল্পীদের নিখুঁত সংলাপ প্রক্ষেপণ, চমৎকার কোরিওগ্রাফি এবং মঞ্চের আবহ সংগীত পুরো নাটকে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। সীমিত পরিসরের স্টুডিও থিয়েটার হলেও দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
নাটকটির সফল মঞ্চায়ন শেষে এর কুশীলব এবং কলাকুশলীদের করতালিতে অভিনন্দন জানান উপস্থিত নাট্যপ্রেমী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। উপস্থিত অনেক দর্শকই জানান, দেশ নাটকের চিরাচরিত মানসম্মত নাট্যচর্চার ধারায় এই নতুন প্রযোজনাটি একটি দারুণ সংযোজন।
নির্দেশনা ও সার্বিক আয়োজন নিয়ে নির্দেশক কামাল মাহফুজুল হাদী বলেন, ‘স্টুডিও থিয়েটারের আবহে এই নাটকটির মধ্য দিয়ে আমরা দর্শকদের কাছে একটি বিশেষ বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছি। দর্শকদের এই ইতিবাচক সাড়া আমাদের পুরো দলের পরিশ্রমকে সার্থক করেছে।’
দেশবার্তা/এসআইএস/এসবি/একে