গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফি তৈরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তার চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় আরও একজন পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের মামুনী আক্তার (২৪), গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অভিরামপুর হাজিপাড়ার রাকিবুল হাসান রাকিব (৩০), সাদুল্লাপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার রেজেনা খাতুন সাথী (২৮) এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের মামুন অর রশিদ (৩০)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার হীরকপাড়ায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে পর্নোগ্রাফি তৈরির পাশাপাশি সেগুলো অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়ে অর্থ উপার্জন করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামসহ দুই নারী ও দুই পুরুষকে আটক করা হয়। তবে এ সময় একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
অভিযান শেষে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একাধিক মোবাইল ফোন, ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামত জব্দ করে। পরে পলাতক একজনসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
গোবিন্দগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে এই অপরাধে জড়িত ছিলেন। তারা পর্নোগ্রাফি তৈরি করে ইন্টারনেটের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আর্থিক সুবিধা অর্জন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি তৈরি, সংরক্ষণ ও প্রচার দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অনলাইনে সক্রিয় অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
দেশবার্তা/এসআইএস/একে